যশোরে এসিল্যান্ডে’র নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা দাবির নেপথ্যের নায়ক কারা?


কল্যাণ রায়, যশোর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৪ । ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
যশোরে এসিল্যান্ডে’র নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা দাবির নেপথ্যের নায়ক কারা?
প্রতীকী ছবি

যশোরে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর হতে এসিল্যান্ড পরিচয় দিয়ে মোবাইল কোট পরিচালনার ভয় দেখিয়ে কুয়াদা বাজারের বিভিন্ন দোকানির কাছে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন কে বা কারা ? সেটি খুজতে মাঠে কাজ করছে প্রশাসনের একাধিক টিম।

গত ০৭ই জুলাই সন্ধ্যায় রামনগর ইউপি সদস্য রাশেদ হোসেন’র নিকট ০১৮৭৪-২০৬৭৫৯ নম্বর থেকে এসিল্যান্ড, সদর পরিচয়ে ফোন দিয়ে ওয়ার্ডে থাকা স’মিল, হোটেল ও তেলপাম্পের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলাম’র নম্বর প্রদান করেন। কিছুক্ষণ পর ওই নাম্বার থেকে নজরুল ইসলাম’র নিকট কল দিয়ে কুয়াদা বাজারের সকল স’মিল, হোটেল’র তথ্য জানতে চান। তখন তিনি কুয়াদা বাজারস্থ ৯নং ওয়ার্ড সিরাজসিঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম’র নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ওই নাম্বার থেকে কামরুল ইসলাম’র নিকট ০১৭২৫-৫৫৮২২৬ নম্বরে ফোন করলে তিনি কুয়াদা বাজারের সকল মিষ্টির দোকান ও স’মিলে গিয়ে নিজের ফোনে কথা বলিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের মোবাইল কোর্ট পরিচলনা করে জরিমানা আদায় ও প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভাই ভাই মিষ্টান্ন ভান্ডারে ৫০ হাজার, স’মিল ব্যবসায়ী শাহাজান কবিরের নিকট ৮০ হাজার, ব্যবসায়ী আরাফাত ইয়াসির প্রান্ত’র নিকট ৫০ হাজার, ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার’র বাবু ঘোষ’র নিকট ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে কুয়াদা বাজারে মিষ্টি ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কুমার সাহা ০১৮৭৪-২০৬৭৫৯ নগদের মাধ্যমে দুটি কিস্তিতে ৫হাজার টাকা প্রদান করেন।

‘দৈনিক ভোরের চেতনা’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর মনিরামপুর থানা পুলিশ কুয়াদা বাজারে খোঁজ খবর নিয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রাশেদ হোসেন ও সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামের নাম আসছে। তবে কামরুল ইসলাম দাবি করছেন, তাকে ব্যবহার করে ফাঁসিয়েছে প্রতারক চক্র।

স্থানীয়রা বলছেন, যে নম্বর থেকে এসিল্যান্ড সেজে ফোন দেওয়া হয়েছে সেই নম্বরটি ট্র্যাকিং করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। এদিকে, ঘটনাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মনিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যগণ ০৮ জুলাই মনিরামপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুমের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য রাশেদ হোসেন বলেন, এসিল্যান্ড পরিচয়ে আমাকে কল দিলে ব্যস্ত থাকায় আমি স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলামের নাম্বার প্রদান করি।

স্থানীয় নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, আমাকে কল দিয়ে কুয়াদা বাজারে হোটেল ও  স’মিলের তথ্য জানতে চাইলে আমি সাবেক মেম্বার কামরুলের নাম্বার দিয়ে দিছি, পরে শুনি দোকানিদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে, একজন সম্ভবত টাকা দিয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। আমি ঘড়যন্ত্রের শিকার।

ঘটনার বিষয়ে যশোর সদর সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদুল হাসান’র নিকট জানতে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। অপরদিকে মনিরামপুর সহকারী কমিশনার ভূমি নিয়াজ মাখদুম’র সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১