ফর্মহীন ফরোয়ার্ড, ভরসার উইঙ্গার


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৪ । ২:৪০ অপরাহ্ণ
ফর্মহীন ফরোয়ার্ড, ভরসার উইঙ্গার

ইংল্যান্ডের সেন্টার ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন ২ গোল করলেও তার ফর্ম নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। একই পরিস্থিতি নেদারল্যান্ডসের মেম্ফিস ডিপাইয়ের ক্ষেত্রেও। এই দুজন ফরোয়ার্ড যেন দলের জন্য খোঁড়া ঘোড়ার মতোই।

তবে ডিপাইয়ের ফর্মহীনতা খুব একটা প্রভাব ফেলছে না ডাচ দলের উইঙ্গার কোডি গ্যাকপোর কারণে। ইংল্যান্ডও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বুকায়ো সাকা ফর্মে ফেরায়। সেন্টার ফরোয়ার্ডদের ফর্মহীনতায় উভয় দলই নির্ভর করছে তাদের এই দুই উইঙ্গারের ওপর। আজ ডর্টমুন্ডে ডাচদের আশা গ্যাকপো, আর ইংল্যান্ডের বাজির ঘোড়া সাকা।

প্রিমিয়ার লিগে গ্যাকপোর সেরা রূপটা এখনও দেখা যায়নি ইংলিশ ভক্তদের কাছে। মোহামেদ সালাহর কারণে কিছুটা আড়ালে থাকতে হয় লিভারপুলের এই ডাচ ফরোয়ার্ডকে। শান্ত-সৌম্য দর্শন গ্যাকপোই আজকের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রধান হুমকি। মেজর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভালো খেলাটা গ্যাকপোর পুরোনো অভ্যাস। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ছিটকে যাওয়া ম্যাচে ৩ গোল করেছিলেন গ্যাকপো। কাতার বিশ্বকাপের সেই পারফরম্যান্স দেখে ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারকে দলে নিয়েছিল লিভারপুল। কিন্তু অ্যানফিল্ডে তিনি এখনও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

গ্যাকপো মূলত লেফট উইঙ্গার। কিন্তু লিভারপুলে এই পজিশনে লুইস দিয়াজ ও দিয়াগো জোতা আছেন। ফলে লেফট উইঙ্গে গ্যাকপো তৃতীয় পছন্দ। তবে ডারউন নুনেজ ব্যর্থ হলে মাঝে মাঝে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলানো হয় তাকে। ক্লাবের স্বার্থে পছন্দের পজিশন ছাড়িয়ে কখনও সেন্টার ফরোয়ার্ড আবার কখনও মিডফিল্ডেও খেলতে হয় গ্যাকপোকে। তবে জাতীয় দলে এই সমস্যা নেই। নিজের পছন্দের পজিশনে খেলতে পারছেন বলে অপ্রতিরোধ হয়ে উঠেছেন এই ডাচ তারকা। নেদারল্যান্ডস ইউরো জিতলে আসরের সেরা খেলোয়াড়ও হয়ে যেতে পারেন তিনি।

সাকার অবশ্য এই সমস্যাটি নেই। আর্সেনালের প্রথম পছন্দের রাইট উইঙ্গার তিনি। জাতীয় দলেও এই পজিশনে তিনিই কোচের প্রথম পছন্দ। তবে এবারের ইউরোর গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে সাকা তেমন ভালো খেলতে পারেননি। তাই মনে হয়েছিল, গত ইউরোর দুঃসহ স্মৃতি হয়তো এখনও তাকে তাড়া করছে। ইতালির বিপক্ষে গত ইউরোর ফাইনালে টাইব্রেকার মিস করেছিলেন তিনি এবং সেই মিসের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদের শিকার হয়েছিলেন। তবে নকআউট পর্বে এসে তিনি জ্বলে উঠেছেন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে একমাত্র তিনিই খেলেছেন। ইংল্যান্ডের অধিকাংশ আক্রমণের উৎস ছিলেন তিনি।

রাইট উইং দিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে অনেকগুলো ক্রস ফেলেছেন তিনি। কিন্তু সেগুলোর একটিও কাজে লাগাতে পারেননি কেইন, বেলিংহাম, ফোডেনরা। শেষ পর্যন্ত নিজেই বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে সমতা ফেরান। এর পর টাইব্রেকারে গোল করে দলকে শেষ চারে নিয়ে আসেন। আজও ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ওপরই নির্ভর করছে ইংল্যান্ডের টানা দ্বিতীয় ইউরোর ফাইনালের স্বপ্ন।

দুই উইঙ্গারের জন্যই আজ কাজটা বেশ কঠিন হবে। প্রিমিয়ার লিগে খেলার কারণে দুজনই প্রতিপক্ষের কাছে ভীষণ পরিচিত। গ্যাকপোকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক কাইল ওয়াকারের ওপর। গ্যাকপো লিভারপুলে এবং ওয়াকার ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেন বলে প্রায়ই তাদের দেখা হয়। একইভাবে সাকাকে আটকানোর দায়িত্ব থাকবে নাথান অ্যাকের ওপর। সাকা আর্সেনালে আর অ্যাকে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেন। প্রতিপক্ষ পরিচিত বলে আজকের লড়াইটা অন্য মাত্রা পেতে পারে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১