দায়িত্ব পালনে সততা রক্ষার তাগিদ


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৪ । ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
দায়িত্ব পালনে সততা রক্ষার তাগিদ
পৃথিবীতে জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষকে নানা কাজকর্ম করতে হয়। হালাল উপায়ে সব কর্মই করার সুযোগ রয়েছে। তবে যেকোনো দায়িত্ব বা কাজই আসুক, উপযুক্ত শ্রম ও কর্ম না করে ফাঁকিবাজির কোনো সুযোগ নেই ইসলাম ধর্মে।
মূলত ‘দায়িত্ব’ মুসলমানের ওপর আমানত হিসেবে অর্পিত হয়। এই আমানতের হক যে পালন করতে পারবে সে পুরস্কৃত হবে আর যে ঠিকমতো পালন না করে ফাঁকিবাজি করবে তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। আমানত আল্লাহর হোক আর মানুষের হোক- সঠিকভাবে তা পালন করা মুমিনের অন্যতম কর্তব্য।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে আমানত রক্ষা করে না তার ঈমানের দাবি যথাযথ নয় এবং যে অঙ্গীকার পূরণ করে না তার দ্বীন যথাযথ নয়’ (মুসনাদে আহমদ : ১৩১৯৯)। সফল মুমিনদের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
‘যারা নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে’ (সুরা মুমিনুন : ৮)। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির দায়িত্বের অনুভূতি যখন খতম হয়ে যায় তখন এর প্রতিক্রিয়া বহুদূর পর্যন্ত গড়ায়। সুতরাং দায়িত্ব পালনে ইসলামের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা রাখা সবারই জরুরি।
দায়িত্ব একটি আমানত : ইসলামে আমানতের পরিধি অনেক বিস্তৃত। চাকরিজীবীদের কাজের সময়টুকুও আমানত হিসেবে গণ্য। কাজ রেখে গল্প-গুজবে মেতে ওঠা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া খেয়ানতের শামিল।
অফিসের জিনিসপত্রও কর্মীর কাছে আমানত। ব্যক্তিগত কাজে তা ব্যবহার করা বা নষ্ট করা পুরোপুরি নিষেধ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি। তা হলো মিথ্যা কথা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এবং আমানতের খেয়ানত করা।’ (বুখারি : ৩৩)

দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে : যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য। আমানত রক্ষায় ইসলাম জোর তাগিদ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও। আর যখন মানুষের বিচার-মীমাংসা করবে, তখন ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করো।
আল্লাহ তোমাদের সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী’ (সুরা নিসা : ৫৮)। নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যককে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে।’ (বুখারি : ৮৪৪; তিরমিজি : ১২৪)

দায়িত্বে অবহেলা করা গুনাহ : সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীলরা ঠিক সময়ে অফিসে আসেন। কর্তব্য পালনে ফাঁকি, অবহেলা বা অলসতার আশ্রয় নেন না। সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োগ করে কাজের মান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম।
দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই। প্রতিটি ব্যক্তিকে তার কর্ম, পেশা ও দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন মালিকের কাছে তার আমানত প্রত্যর্পণ করো।’ (সুরা নিসা : ৫৮)
কাজে অবহেলার কঠিন শাস্তি : সব ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। নামাজ-রোজার মতোই সেগুলো মেনে চলা ফরজ। যেমন ব্যবসায়ী কখনো ধোঁকা প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না, ভেজাল দেবেন না। চাকরিজীবী সময়মতো অফিসে আসবেন, পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কাজে অলসতা করবেন না।
কাজে যদি নিয়মবহির্ভূত সময়ক্ষেপণ করা হয়, সেটা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। ইসলাম এসবে কখনোই সমর্থন করে না। বরং নিয়মভঙ্গের জন্য শাস্তির কথা বলে। আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১-৩)।
ফিকাহ বিশারদদের মতে, এখানে মাপে কম-বেশি করার অর্থ হলো পারিশ্রমিক পুরোপুরি আদায় করে নিয়ে কাজে গাফিলতি করা। কাজে ফাঁকি দিয়ে ওই সময় অন্য কাজ করা বা সময়টা অলস কাটিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমরা যখন কাউকে দায়িত্ব প্রদান করি,
সে যদি এক টুকরো সুতা বা তার চেয়েও কোনো ক্ষুদ্র জিনিস খেয়ানত করে, তবে কিয়ামতের দিন খেয়ানতের বোঝা মাথায় করে সে উত্থিত হবে।’ বিভিন্ন হাদিসের আলোকে জানা যায়,
কাজে ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তি কখনো নিজেকে পূর্ণ মুসলমান দাবি করতে পারে না। কারণ ফাঁকির মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ হারাম। আর হারাম খাদ্য গ্রহণ করে কোনো ইবাদত পালন করলে আল্লাহ তা কবুল করেন না।
দায়িত্ব পালনে সততা রক্ষা : সৎ-নিষ্ঠাবান ও নির্লোভ ব্যক্তি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে। কারণ প্রতিষ্ঠানের উন্নতি-অবনতি, সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করে সৎ কর্মচারীর ওপর।
কর্মচারী সৎ না হলে প্রতিষ্ঠান সফলতা লাভ করতে পারে না। সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মী প্রতিষ্ঠানের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। কর্মীর সঙ্গে সদাচরণ করা কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীলদের নৈতিক দায়িত্ব। অন্যদিকে কর্মীদের কর্তব্য হলো প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ না করা।
শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হালাল হওয়া এবং এর বিনিময়ে পরকালীন সফলতার প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি। সেবার মানসিকতা নিয়ে আন্তরিকতা ও আনন্দের সঙ্গে কাজ করলে পার্থিব-পারলৌকিক সাফল্য অর্জন সম্ভব। আল্লাহ বোঝার ও আমল করার তাওফিক দিন।
সূত্র: স/ আলো

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১