কোটা আন্দোলনের জবাবে পাল্টা আন্দোলনের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৪ । ১:৪৫ অপরাহ্ণ
কোটা আন্দোলনের জবাবে পাল্টা আন্দোলনের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার হাইকোর্টের রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। তারা বলছেন, দেশের মানুষকে জিম্মি করে এই রায় নেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ আন্দোলন চলবে, ততোক্ষণ আমরা পাল্টা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বুধবার (১০ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রজন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির নেতা-কর্মীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “দেশের মানুষকে জিম্মি করে আন্দোলনকারীরা এই রায় নিয়েছে। এখন আমরাও বসে থাকবো না। এতদিন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে দেখে কঠোর আন্দোলন করিনি। কিন্তু এবার বৈঠক করে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।”

তারা আরও জানান, কোটা শীঘ্রই ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিগুলো সংসদ ভবন অভিমুখী মিছিল বের করবে। প্রয়োজন হলে সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে শীঘ্রই কোটা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হবে।

আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াতের দোসর আখ্যা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, “আজকে আপনারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। এখানে শরীক হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা। আপনারা ঘরে ফিরে যান। ৭১ সালে যে স্বাধীনতা হয়েছে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা এই যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত। যতক্ষণ তোমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ আমরাও আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরাও রাস্তায় থাকবো।”

আপিল বিভাগের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় তারা আরও বলেন, “আমরা কোটা পুনর্বহাল চাই। কোটা আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান চলবে। দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।”

এদিকে, আপিল বিভাগের রায়ের পর শাহবাগে অবস্থানরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, “আদালতের প্রতি সম্মান আছে। তবে কমিশন গঠন করে কোটা পদ্ধতির সংস্কার ও স্থায়ী সমাধান হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ২০২৪ সালে এসে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় নয়, সকল চাকরি থেকে কোটা তুলে নেয়ার এক দফা দাবি করছি। আমাদের দাবি হাইকোর্টের কাছে নয়, সংসদের কাছে। সংসদে আইন পাশ করে সকল চাকরি থেকে কোটা তুলে নিতে হবে। আইন অনুসারে ৫ শতাংশ কোটা রেখে সব তুলে নিতে হবে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। স্থায়ী সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না, আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, “আদালতের রায়ের পর আন্দোলন করার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে রিট করেন। গত ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা। এরপর, ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী রোববার ও সোমবার টানা দুদিন বিকেলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচি পালন করেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “সারাদেশের সব মহাসড়ক ও রেলপথ এই ব্লকেডের আওতাভুক্ত থাকবে।”

বুধবার সকাল-সন্ধ্যা ব্লকেড কর্মসূচি পালনের সময় আপিল বিভাগের আদেশে হাইকোর্টের দেয়া রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। চার সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১