যমুনার পানি কমলেও বেড়েছে ভোগান্তি; খাবার বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্য সংকট


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : জুলাই ৯, ২০২৪ । ৬:২৮ অপরাহ্ণ
যমুনার পানি কমলেও বেড়েছে ভোগান্তি; খাবার বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্য সংকট

আজও সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির কারণে জেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা তলিয়ে গেছে।

বর্তমানে ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তাঁত কারখানাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি চর ও নিম্নাঞ্চলের ৬ হাজার ৪৯৭ হেক্টর ফসলি জমিও প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, ফলে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ভুতের মোড়, শাহজাদপুর উপজেলার হাট-পাঁচিল, জালালপুর ও কৈজুরীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে অনেক বসতবাড়ি, বহুতল ভবন, ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনা। কাজীপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী, তেকানি, নিশ্চিন্তপুর ও চরগিরিশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের ৮৩ হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। তাদের মধ্যে ৯৫ মেট্রিকটন চাল, ৫ লাখ টাকা এবং ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের বেলুটিয়া গ্রামের রীনা খাতুন জানান, “ঘরের মধ্যে বুক পানি। যাওয়ার উপায় নাই। ঘর ধসে পড়ছে। ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিপদে আছি। রান্না করার জায়গা নাই। কি খাই না খাই দেখার কেউ নাই। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের খোঁজ খবর নাই।”

একই গ্রামের গফুর মোল্লা বলেন, “এত পানি বাড়ি যাওয়া যাচ্ছে না। ঘরের সব কিছু তলাইয়া গেছে। খেয়ে না খেয়ে জীবন চলছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিছি। কাম কাজ বন্ধ। কি খাবো কেউ খোঁজ খবর নেয় না। গরু-ছাগল নিয়েও বিপদে আছি। পাট, তিল পানিতে তলাইয়া গেছে। চারিদিকে শুধু বিপদ।”

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমেছে এবং ভাঙন কবলিত এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান জানান, “জেলার ৫টি উপজেলার ১৮ হাজার পরিবারের মোট ৮৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আমরা ইতোমধ্যেই তাদের মাঝে ৯৫ মেট্রিকটন চাল, ৫ লাখ টাকা ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। আমাদের আরও যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুদ আছে।”

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১