আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস

প্লাস্টিক ব্যাগ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি, নগর জলাবদ্ধতার কারণ


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : জুলাই ৩, ২০২৪ । ১:৩১ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিক ব্যাগ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি, নগর জলাবদ্ধতার কারণ
ফাইল ছবি

আজ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস। প্লাস্টিক ব্যাগ আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে কাজ করছে। নগর-মহানগরীর জলাবদ্ধতার জন্যও প্লাস্টিক ব্যাগ দায়ী।

মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হলেও প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারছে না। প্রতিদিনের বাজার করা, ময়লা ফেলা এবং শুকনো খাবার সংরক্ষণসহ নানা কাজে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যবহারের পর এই ব্যাগগুলো যেখানে-সেখানে ফেলা হয় অথবা উন্মুক্ত স্থানে জমা হয়, তখনই বিপত্তি শুরু হয়।

প্লাস্টিকের ব্যাগ পচনশীল নয়। পচতে কয়েক শ বছর লেগে যায়, ফলে পরিবেশ দূষণ হয় এবং বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়াতে পরিবেশবাদীরা সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

প্লাস্টিকের ব্যাগের সহজলভ্য এবং প্রতিদিন ব্যবহারের উপযোগী বিকল্প হলো কাপড়, কাগজ এবং পাটের ব্যাগ। কাগজের ব্যাগ পচনশীল এবং মাটিতে মিশে যায়। অন্যদিকে, কাপড় ও পাটের ব্যাগ টেকসই, পরিষ্কার করে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। প্লাস্টিক পলিমার, যা জীবাশ্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি। এটি নমনীয়, ক্ষয়রোধী, দীর্ঘস্থায়ী এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর সর্বত্র, এমনকি মেরু অঞ্চলেও, প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে মাটি, পানি, বায়ুমণ্ডল, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য এবং মানব স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্রতি বছর প্রায় ৪৫ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। উন্নত দেশে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকায় পরিবেশে কম ছড়ায়, তবে চীনসহ এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বের ৫১ শতাংশ প্লাস্টিক দূষণকারী। প্লাস্টিক বর্জ্য (বিসফেনল-এ, ফথেলেটস, বিসফেনোন, অর্গানোটিনস, পার ও পলি ফ্লোরোঅ্যালকাইল এবং ব্রোমিনেটেড ফেইম রিটারডেন্টস ইত্যাদি) মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশে ছাড়ে।

ন্যানো ও মাইক্রো কণা হিসেবে এসব ক্ষতিকর পদার্থ খাদ্যচক্র ও পানির মাধ্যমে প্রাণীদেহে প্রবেশ করে। মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিক কণায় থাকা পদার্থ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় বিরূপ পরিবর্তন ঘটায়, হরমোনজনিত পরিবেশ পরিবর্তন করে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি ব্যাহত করে, স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের নানা রোগের কারণ হয় এবং ক্যানসারসহ আরও নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। এছাড়া, প্লাস্টিক পণ্যের সরাসরি সংস্পর্শে ত্বকের রোগ হতে পারে।

প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্য ছাড়া আধুনিক জীবন অচল হলেও, প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধ করা যৌক্তিক নয়। পলিথিন ব্যাগ দূষণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। পলিথিনের পরিবর্তে কাগজ, পাট বা প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি ব্যাগ ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে, প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে।

পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ, পাটের ব্যাগের ব্যবহারে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পলিথিন উৎপাদনের কারখানাগুলো পাটের ব্যাগ তৈরির মেশিন ক্রয়ে ঋণের ব্যবস্থা করলে এবং উৎপাদনের সাথে জড়িত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা আগ্রহী হবেন। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পলিথিন আসা রোধেও নজরদারি প্রয়োজন।

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সারাদেশে ক্যাম্পেইন, মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ করতে হবে। মহল্লায় ছোট-বড় দোকানে অভিযান চালিয়ে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্লাস্টিক দ্রব্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং পলিব্যাগ ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক তৈরির কারখানা বন্ধ করতে হবে।

২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ৩ জুলাই আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি ব্যাগ ব্যবহার প্রচারের জন্য। আমাদের সবাইকে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১