সর্বশেষ :

কিডনি পরিষ্কারের মোক্ষম দাওয়াই ধনেপাতা


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৪ । ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
কিডনি পরিষ্কারের মোক্ষম দাওয়াই ধনেপাতা

মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি। কিডনি মূত্রনালীর অংশ এবং রক্তের ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি কিডনির অবস্থান। প্রতিটি কিডনি দেখতে শিমবিচির মতো এবং লালচে রংয়ের।

বছরের পর বছর, দিনের পর দিন কিডনি ঠিক এভাবেই ছাঁকনির কাজ করে চলে। লবণ, বিষ এবং অবাঞ্ছিত পদার্থ শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু কিডনি অকেজো হয়ে গেলে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য রক্তে জমা হয়। তখন বেঁচে থাকাই মুশকিল।

একজন মানুষকে শারীরিকভাবে বিপন্ন করে তুলতে কিডনির রোগই যথেষ্ট। তাই কিডনি ভালো রাখা চাই। কিডনি ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, লবণ ও চিনি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, ব্যায়াম ইত্যাদি জরুরি। প্রতিদিন ধনে পাতার শরবত খেলে কিডনি ভাল থাকে।

ধনেপাতা অসাধারণ গুণে ভরপুর সুপরিচিত একটি সুগন্ধি ঔষধি গাছ। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার স্থানীয় উদ্ভিদ। বঙ্গ অঞ্চলের প্রায় সর্বত্র ধনের বীজ খাবারের মসলা হিসাবে আর এর পাতা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ধনিয়া পাতার বৈজ্ঞানিক নাম কোরিয়নড্রাম সেটিভাম। এটি একটি একবর্ষজীবী উদ্ভিদ। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র ধনের বীজ খাবারের মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ধনেপাতা বোনা হয় সাধারণত মসলা হিসেবে ধনিয়া পাওয়ার জন্য। তবে বীজ হওয়ার আগে এ গাছের পাতা বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়াতে খুবই জনপ্রিয় একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দেশেই উৎপাদিত হয় বলে সারা বছর বিশেষ করে শহরের বাজারগুলোতে ধনিয়া পাতার দেখা মেলে।

প্রাচীনকাল থেকে রান্নাকৃত খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধনেপাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। ধনেপাতা খাদ্যের স্বাদ ও ঘ্রাণ অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। ধনে শীতকালে চাষ করা হয়।

ধনেপাতাকে আমরা সালাদ এবং রান্নার স্বাদ বাড়ানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু শুধু স্বাদ এবং ঘ্রাণ বাড়ানোর কাজেই এর গুণাগুণ শেষ হয়ে যায় না। এ পাতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো একটি তৃণ জাতীয় খাবার।

ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘কে’, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন ইত্যাদি। মিনারেলের মধ্যে রয়েছে ম্যাংগানিজ, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্লোরিন এবং জিংক, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি।

এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমানে পলিফেনল ও ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটিতে কোলেস্টেরল এর মাত্রা শূন্য। তাই এ পাতাকে সাধারণ কিছু ভাবার কোনো কারণ নেই।

ধনে পাতায় রয়েছে ১১ প্রকার আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় তেল, ৬ প্রকার এ্যাসিড, এলকোহল, তারপিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, ভিটামিন কে, ফসফরাস, প্রোটিন, থায়ামিন, বিরোফ্লাবিন, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ক্লোরিন,

জিংক, ক্যালসিয়াম। এতে রয়েছে পলিফেনল ও ফাইটোকেমিকেল যা এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। জেনে নিন ঘরোয়া উপায়ে কিডনি পরিষ্কার যেভাবে করবেন-

কিডনি পরিষ্কার করতে ধনেপাতার জুড়ি নেই। ধনে পাতায় থাকা উপাদান কিডনিতে জমে থাকা ক্ষতিকর লবন ও বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের সাথ বের করে দিয়ে কিডনিকে রাখে সবল। কিডনি পরিষ্কার করার ঘরোয়া হলো এক মুঠো ধনেপাতা ও তিন গ্লাস পানি।

একটি প্যানের মধ্যে পানি নিয়ে এর মধ্যে এক মুঠো ধনেপাতা নিয়ে সিদ্ধ করুন। অন্তত ১০ মিনিট সিদ্ধ করতে হবে। এবার চুলা থেকে পানীয়টি নামিয়ে ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য একপাশে রেখে দিন। এবার পানীয়টি ছেঁকে পান করুন। প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে প্রতিদিন অন্তত এক কাপ এই পানীয়টি পান করুন।

এক আঁটি ধনেপাতায় আছে ১১% ফাইবার, ৪% প্রোটিন, ১% ক্যালরি, ১% কার্বোহাইড্রেট, ১% ফ্যাট। ম্যাঙ্গানিজ ২১%, পটাসিয়াম ১৫%, কপার ১১%, আয়রন ১০%, ক্যালসিয়াম ৭%। এতে রয়েছে ৩৮৮% ভিটামিন কে, ১৩৫% ভিটামিনে এ, ৪৫% ভিটামিন সি, ১৬% ফলেট।

ধনেপাতায় রয়েছে হাজার গুণ। অ্যাগজিমা সারায়, বমিভাব কমায়, পেটের গন্ডগোল কমায়, আলসার সারায়, সতেজ হয় শ্বাস-প্রশ্বাস, হজমে সাহায্য করে, ব্লাড প্রেশার কমায়, অ্যানিমিয়া কমায়, ডায়াবেটিসে প্রচুর উপকার মেলে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

 

সুত্রঃ ঢা/টা

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১