সর্বশেষ :

ডায়াবেটিসের মোক্ষম দাওয়াই ভেষজ কারিপাতা


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৪ । ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ডায়াবেটিসের মোক্ষম দাওয়াই ভেষজ কারিপাতা

আধুনিক জীবনধারায় অনেকেই ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস জটিলতার প্রধান কারণ শরীরে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। তাই ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে, তারা যে খাবার খান সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

অন্যথায়, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি ডায়াবেটিস মারাত্মক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য আয়ুর্বেদিক ভেষজ খাওয়া উচিত। এগুলো খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া স্বাস্থ্য সমস্যাও সহজেই কমে যায়। কারিপাতা এমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা শরীরের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলেও কারিপাতা গাছ দেখা যায়। পাতার সুন্দর ঝাঁঝালো সুগন্ধের জন্য রান্নায় মশলা পাতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।পাতাগুলো নিমপাতার মতো। সুন্দর পত্রবিন্যাশ। ডালের মাথায় পুষ্পমঞ্জরীতে সাদা রঙের ফুল ফোটে, ফুল থেকে নিমের মতো ফল হয়। সবুজ ফল পরিপক্ক হবার সাথে সাথে লালচে থেকে কালো হয়ে যায়। পাকা ফল মিষ্টি হয়, খাওয়া যায় কিন্তু বীজ বিষাক্ত। বীজ থেকে সহজেই চারা হয়।

রান্নায় সুগন্ধযুক্ত মসলা হিসেবে ব্যবহার, ঘরে শোভাবর্ধন, বসারঘরে সুগন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি এবং নানান ব্যধির চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ভেষজ গুণাগুণ সম্পন্ন পরিচিত একটি মসলা।

কারি বা ঝোল তরকারি রান্নার জন্য এ গাছের পাতা ব্যবহার করা হয় বলে ইংরেজি নাম কারি লিফ, বাংলায় কারিপাতা। কারিপাতা কামিনী গোত্রের উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম মুর‌্যায়া কোয়েনিজি। অবশ্য স্থানীয় আরও কিছু নাম আছে- মিষ্টি নিম, নিমভূত, বারসাঙ্গা ইত্যাদি। পাতা দেখতে অনেকটা নিমপাতার মতো।

পাতায় সালফারজনিত এক ধরনের উদ্বায়ী তেল থাকায় সুন্দর ঝাঁজাল গন্ধ পাওয়া যায়। কাঁচা পাতা ঘষলে গোলমরিচ, লবঙ্গ, মরিচ, আদা ইত্যাদি মসলার মিশ্রিত ঘ্রাণ পাওয়া যায়। মূলত এই সুগন্ধির জন্যই রান্নায় মসলাপাতা হিসেবে এর ব্যবহার। বিভিন্ন রান্নায় স্বাদ এবং ঘ্রাণ বাড়ানোর জন্য কারিপাতা ব্যবহার করা হয়। কারিপাতার পাশাপাশি তার রসও একই রকম উপকারি।

সুগন্ধি মসলা হিসেবে সবুজ পাতা রান্নায় ব্যবহার করা যায়। পাতায় ৬.১% প্রোটিন, ১.০% তেল, ১৬% শ্বেতসার, ৬.৪% আঁশ ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি (৪ মিলিগ্রাম/১০০গ্রাম পাতা) আছে। কাঁচা কারিপাতা কয়েকটা পানিতে ধুয়ে রান্নার সময় তার ভেতরে ছিঁড়ে দিলে রান্নায় সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝ আসে।

গরু ও খাসির গোশত, মিশ্র সবজি,মটর ডাল ইত্যাদি কারিপাতা দিয়ে রান্না করা যায়। কারিপাতা শুকনো করে গুঁড়ো হিসেবে কারি পাউডার তৈরি করা যায়। বোতলে ভরে রেখে রান্নার সময় তা ব্যবহার করা যায়। তবে কাঁচা পাতায় ঘ্রাণ বেশি।

১০০ গ্রাম কারিপাতার মধ্যে থাকে ১৮০ ক্যালোরি শক্তি। এছাড়াও কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, মিনারেল ও নানারকম ভিটামিন থাকে কারিপাতার মধ্যে। তাই শুধুমাত্র স্বাদ ও গন্ধের জন্যই নয়, শরীর সুস্থ রাখতেই খান কারিপাতা । ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়া, স্নায়ুর সমস্যা, চুলপড়ার সমস্যা, সবকিছুর সমাধান রয়েছে এই কারিপাতাতেই।

একনজরে জেনে নিন কারিপাতার উপকারিতা:

কারিপাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই পাতা খেলে ভাল ফল পান। কারিপাতা বা কারি পাতার রসে থাকা আয়রন, জিঙ্ক এবং কপার থাকায় তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

রান্নায় নিয়মিত কারিপাতা মেশালে ডায়াবেটিসের সমস্যা কমে। বেশি ভাল ফল পেতে কয়েকটি কারি পাতা একটু ভিজিয়ে চিবিয়ে নিতে পারেন। কারিপাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও কারিপাতার মধ্যে ফাইবার বেশি থাকায় হজমও ভালো হয়। তাই হঠাৎ করে সুগার বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা আসে না। ইনসুলিন ক্ষরণও ঠিকঠাক থাকে।

কোলেস্টেরলের সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁড়ি কাঁড়ি ওষুধও খান অনেকে। কিন্তু তাতেও সব সময় সুস্থ থাকা সম্ভব হয় না। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভরসা হতেই পারে কারিপাতা। খালিপেটে কারিপাতা ভেজানো জল খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ক্যানসার রোধে সাহায্য করতে পারে কারিপাতা। কারণ এই পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা কিনা দেহে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি আটকে দেওয়ার কাজে সক্ষম। তাই সুস্থ থাকতে ঝটপট এই পাতাকে ডায়েটে জায়গা করে দিন।

কারিপাতার মধ্যে যে সুগন্ধ রয়েছে তা ব্যাকটেরিয়া মারতেও সাহায্য করে। তাই কারিপাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে গোসল করলে গায়ের দুর্গন্ধ চলে যায়। অতিরিক্ত ঘাম হয় না। যার ফলে স্কিনও ভালো তাকে। ফুসকুড়ি, খোস, পাঁজরা এসব সমস্যা আসে না।

ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা রাখে কারিপাতা । খাবারের মধ্যে কারিপাতা থাকলে কোলেস্টেরল থাকে নিয়ন্ত্রণে। আর যার ফলে হার্টের সমস্যার সম্ভাবনাও কমে।

খালি পেটে কারিপাতা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। কারণ কারিপাতার মধ্যে যে এনজাইম থাকে তা শরীরে হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণে সাহায্য করে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। যে কারণে বিভিন্ন রান্নাতেও কারিপাতা ফোড়ন দেওয়া হয়।

অনেকের অল্প খেলেই বমি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারোর আবার খাবার গিলতে সমস্যা হলে মনে হয় বমি হয়ে যাবে। এই সবই পেটের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। আর তাই বমি ভাব কমাতে খান কারিপাতা।

কারিপাতা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। যা আমাদের মস্তিষ্কের খেয়াল রাখে। যাঁদের অ্যালঝাইমার্স রয়েছে তাঁদের জন্য কারিপাতা খুবই ভালো। এছাড়াও হঠাৎ করে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বয়স্কদের মধ্যে। তাঁদের জন্যও খুব ভালো হল এই কারিপাতা।

কারিপাতায় থাকে ভিটামিন এ। দৃষ্টিশক্তি ভালো করতে যা খুবই সাহায্য করে। এছাড়াও যাঁদের ছানি পড়ছে বা সেই সংক্রান্ত সমস্যা হয়েছে তাঁরা যদি প্রতিদিন খাবারে ঘি আর কারিপাতা খান তাহলে বেশ ভালো ফল পাবেন।

কাঁচা কারি পাতা চিবালে ওজন কমে, হজমশক্তি বাড়ে, ডিটক্সিফিকেশন হয়, ভালো কোলেস্টোরেলের মাত্রা বাড়ে। যে কারণে যাঁরা ডায়েট করছেন তাঁদের ব্রেকফাস্টে যদি উপমা বা চিঁড়ের পোলাও থাকে তাহলে সেই রান্নায় অবশ্যই কারিপাতা ব্যবহার করার কথা বলা হয়। শরীরচর্চার পর ৮ থেকে ১০টা কারিপাতা খেতে পারলে খুবই ভালো।

কারি পাতা ডায়রিয়ার জন্য ভাল প্রতিকার। ডায়রিয়ার চিকিৎসা করতে, কারি পাতা নিন এবং সরাসরি এর পেস্ট বা রস তৈরি করুন। কারিপাতা ভিটামিন সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারিতে পরিপূরণ থাকায় এটি হার্টের পক্ষে খুব উপকারী। নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।

ফলিক এবং আয়রনে ভরপুর এই প্রাকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর লহিত রক্ত কনিকার মাত্রা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে অ্যানিমিয়ার মতো রোগ বেশিদিন শরীরে থাকার সুযোগই পায় না। প্রতিদিন সকালে একটা খেজুরের সঙ্গে ২টা কারি পাতা খেলেই উপকার পাবেন পেটে ব্যথা কিডনির সমস্যার পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে। কারি গাছের বাকল পেটের সমস্যার থেকে ত্রাণ পেতে সাহায্য করে।

আপনি যদি পিত্তজনিত বমিতে ভুগে থাকেন, তাহলে কারি পাতা আপনার জন্য একটি বিস্ময়কর প্রতিকার হতে পারে। গর্ভাবস্থার পরে নারী শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের পিছনে এই বমি-বমি ভাব দায়ী। আপনি কারি পাতা সেদ্ধ করা পানি পান করতে পারেন, অস্বস্তি এবং সকালে অসুস্থতা কমানোর জন্য গর্ভবতী নারীদের পক্ষে এটি সত্যিই কার্যকর হতে পারে।

প্রতিদিন সকালে একগ্লাস পানির সঙ্গে কয়েকটি টাটকা কারিপাতা চিবিয়ে খান। এর পর ৩০ মিনিট কিছু খাবেন না। ৩০ মিনিট পর ব্রেকফাস্ট করুন, সঙ্গে অবশ্যই খান আমন্ড। কারিপাতার মধ্যে থাকে ভিটামিন সি, ফসফরাস, আয়রন, ক্যালসিয়াম, নিকোটিনিক অ্যাসিড। এইভাবে নিয়মিত খেলে চুলপড়া কমবেই। এছাড়া কারি পাতা কেমোথেরাপি এবং বিকিরণ থেরাপির জন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সাহায্য করে।

 

সূত্র: দৈ/যু

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯