সর্বশেষ :

বারহাট্টার কৃষকদের মাঠে শোভা পাচ্ছে রঙিন ফুলকপি


রিপন কান্তি গুণ, বারহাট্টা:
প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৪ । ৪:৩০ অপরাহ্ণ
বারহাট্টার কৃষকদের মাঠে শোভা পাচ্ছে রঙিন ফুলকপি

দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো নেত্রকোনার বারহাট্টাতেও চাষ হচ্ছে রঙিন ফুলকপি। কপি গুলো দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন সুস্বাদু। পুষ্টিগুণ সাধারণ ফুলকপির চেয়ে বেশি। এসব কপির ফলন ও মুনাফা ভালো হওয়ায় চাষীদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। এসব রঙিন ফুলকপি ক্রেতাদের নজর কাড়ছে, চাষীরাও ভাল দাম পাচ্ছেন।

সরেজমিনে বারহাট্টার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, রঙিন ফুলকপি চাষ করে অনেক কৃষক লাভবান হয়েছেন।মাঠজুড়ে বাহারী ফুলকপি। কোথাও বেগুনী, কোথাওবা হলুদ। আছে লাল-সবুজের শোভাও। না না রঙের এই ফুলকপি দেখতে খুবই সুন্দর।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক সন্তোষ বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এতদিন আমি সাদা ফুলকপি চাষ করেছি। গতবছর থেকে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প কিছু জায়গায় এই রঙিন ফুলকপি চাষ করেছিলাম। ফলনও হয়েছিল ভালো, মূল্যও ভালো পেয়েছি। উৎপাদন খরচও একই।

তবে কপি গুলো রঙিন হওয়ায় বাজারে এই ফুলকপির দাম দ্বিগুণ। গতবার উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২০০ বীজ এনে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে ২ শতাংশ জমিতে রোপণ করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছি। এবার আমি ৫ শতাংশ জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি।

তিনি জানান, ফুলকপি চাষে তিনি কোনো প্রকার কীটনাশক বা সার ব্যবহার করেননি, শুধু জৈব সার ব্যবহার করছেন। একই পরিমাণ খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এই কপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরাও।

বরঘর গ্রামের কৃষক তপন চৌধুরী বলেন, ‘নিজ বাড়ির আঙিনার এক বিঘা জমিতে আমি প্রতি বছরই নানা ধরনের সবজি চাষ করি। এবার স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে জমির অর্ধেকাংশে পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ ও গোলাপি রঙের ফুলকপি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি।

এলাকার মানুষ আগ্রহী হয়ে ভালো দাম দিয়ে খেত থেকেই এই ফুলকপি কিনে নিচ্ছেন। বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এসব রঙিন ফুলকপি। মাঝারি আকৃতির একেকটি ফুলকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৃষকসহ উৎসুক মানুষ। তাদের কেউ ফুলকপি কিনছেন আবার কেউ চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।

উপজেলার অন্য কৃষক মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি এবার ২০ শতক জমিতে হলুদ রঙের ফুল কপি চাষ করেছেন। কপিগুলো ভিন্ন রঙের হওয়ায় সহজেই ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এই ফুলকপি। দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, ‘স্বাদ কেমন তা দেখতে জমি থেকেই ৫০ টাকা দিয়ে একটি হলুদ রঙের ফুলকপি কিনেছি। স্বাদ যেমনই হোক কপি গুলো দেখতে চমৎকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান জানান, ‘রঙিন ফুলকপি ভিটামিন-সি, ই, কে, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যারোটেনেয়ড সমৃদ্ধ সবজি। এই সবজি ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে থাকে।

এ এলাকার রঙিন ধরনের শাকসবজির প্রতি কৃষদের আগ্রহ অনেক বেশি। সেজন্য কৃষকরা রানি গোলাপি (বেগুনি) ও হলুদ ফুলকপি প্রথম চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। আমরা চাই সব কৃষকের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তির নতুনত্ব পৌঁছে দিতে। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

আশা করছি তাদের দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও এই রঙিন ফুলকপি চাষ করতে আগ্রহী হবে। প্রয়োজনে আমরাও বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করে যাব।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯