বিজয়ের মাসের পতাকা বিক্রিতে বাড়তি আয় হেমায়েতের


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩ । ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বিজয়ের মাসের পতাকা বিক্রিতে বাড়তি আয় হেমায়েতের

পতাকা বিক্রি করেই সংসারে বাড়তি আয়ের যোগান দেন জয়পুরহাটের হেমায়েত মাতবর। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার শ্রীবর্দি গ্রামের ছায়েম মাতবরের ছেলে  হেমায়েত  প্রতি বছরের মত এবারও বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে লাল সবুজের পতাকা বিক্রির জন্য চলে এসেছেন জয়পুরহাটে।

জেলার পাঁচ উপজেলায় ঘুরে ঘুওে পতাকা বিক্রি করেন তিনি। বিভিন্ন হাট বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় পতাকা ফেরি করে বেড়ান তিনি। জয়পুরহাট শহরের রেলগেট ফলপট্টি এলাকায় পতাকা বিক্রি করার সময় তার কথা বাসস প্রতিবেদকের সঙ্গে।

হেমায়েত জানান, পেশায় তিনি একজন কৃষক। সারা বছর সংসারের কাজকর্ম করলেও বিজয়ের মাসে বাড়তি আয়ের লক্ষে জাতীয় পতাকা, মাথা এবং হাতে বাঁধার ব্যাচ ও বিজয় দিবসের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে থাকেন।

সাধারণত ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবসা চলিয়ে থাকেন তিনি। তবে এবার যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন, তাই বেচা বিক্রি একটু বেশী হচ্ছে বলেই মনে করেন এই পতাকা বিক্রেতা।

দলীয় প্রতীক সম্বলিত ব্যাচ গুলোও ভালই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হেমায়েত। তার ভাষ্যমতে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

এতে গত কয়েক দিনে পতাকা বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মত। আর এই বিজয় নিশান কাঁধে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে ভালোই লাগে তার।

তিনি বলেন, ৬ ফুটের একটি পতাকা বিক্রি হয় ১৫০ টাকা, ৫ ফুট ১০০ টাকা, সাড়ে ৩ ফুট ৮০ টাকা, আড়াই ফুট ৫০ টাকা, দেড় ফুট ৩০ টাকা এবং এক ফুট দৈর্ঘের একটি পতাকা ২০ টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া ফিতা ও ব্যান্ড বিক্রি করছেন ১০ থেকে ৩০ টাকায়।

সারা বছর এসব পতাকা হকারদের দেখা না মিললেও বিজয়ের মাসে শহর থেকে গ্রামের হাট বাজাওে হরমামেসাই  দেখা মেলে। হেমায়েত মাতবরের মত ৮/১০ফুট লম্বা বাঁশে বেঁধে পতাকা বিক্রি করতে দেখা যায় এসব মৌসুমী পতাকা বিক্রেতার। সঙ্গে রয়েছে নানা আকারের পতাকা এবং পতাকার লোগো সংবলিত মাথা ও হাতে বাঁধার ব্যান্ড।

পতাকার মধ্যে যেমন লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা রয়েছে, তেমনি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন লাল-সবুজের মাঝে হলুদ মানচিত্র আঁকা পতাকা ও ব্যাচ। এবার জাতীয় নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার কারণে এসব পতাকার সাথে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দলের প্রতীক সম্বলিত ব্যাচও।

স্থানীয়রা বলছেন, বিজয়ের মাসে অনেকেই বাড়ির ছাদে, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সামনে, এমনকি গাড়িতেও জাতীয় পতাকা ওড়ান। এর ফলে বিজয়ের মাস এলেই জাতীয় পতাকার চাহিদা বেড়ে যায়। অনেকেই দর্জির দোকানে গিয়ে পতাকা বানিয়ে নেয়ার চেয়ে এসব ফেরিওয়ালার কাছ থেকে পতাকা কেনাকে সাশ্রয়ী মনে করেন।

আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন। শুধু পতাকা নয়, হাত ও মাথায় বাঁধার মতো লাল-সবুজ ব্যাচও বিক্রি করছেন। কারণ ১৬ ডিসেম্বরে লাল-সবুজ পতাকা হাতে দেখা যায় শিশু- কিশোরদের।

তবে ফেরি করে বেড়ানো হকারদের এই জাতীয় পতাকাগুলো সঠিক মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয় কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন অনেকেই।
 

সূত্র : বাসস

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১