রোগ নিরাময়ে ভেষজ ঔষধি গুণে ভরপুর চালতা ফল


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৪, ২০২৩ । ৩:৪২ অপরাহ্ণ
রোগ নিরাময়ে ভেষজ ঔষধি গুণে ভরপুর চালতা ফল

গ্রাম বাংলার অতি সুপরিচিত টকজাতীয় ফল চালতা। চালতা গাছ মাঝারি আকারের, চিরহরিৎ জাতীয় গাছ। এক সময় গ্রামবাংলায় চালতার চাটনি ডাল, টক এবং আচার তৈরি করে খাবার খুব চলছিল।

নানাবিধ ভেষজ ওষুধি গুণে ভরপুর চালতা ফলের দেখা মেলে বর্ষাকালে। বর্ষার শেষের দিকে এই ফল পাকতে শুরু করে। চালতা অপ্রকৃত ফল মূলত প্রকৃত ফল খাওয়া হয়না, খাওয়া হয় চালতার মাংসল বৃতি। মাংসল বৃতির আড়ালে প্রকৃত ফল লুকিয়ে থাকে।

চালতা ফলের ইংরেজি নাম ‘এলিফ্যান্ট অ্যাপল’, বৈজ্ঞানিক নাম ডিলেনিয়া ইনডিকা। চালতার আদি জন্ম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তবে সবচেয়ে বেশি জন্মে ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়। গ্রামে এই চালতা যতটা সহজলভ্য, শহরে ততটা নয়। কিন্তু চালতার আচার সবারই কম-বেশি পছন্দ। আবার এই ফলে অন্য অনেক ফলের চেয়ে পুষ্টিগুণ বেশি।

চালতায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, শর্করা, আমিষের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান। এ ছাড়া আরও আছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, থায়ামিন ও রিবোফ্লাবিন। তাই চালতা শরীরে যেমন রোগ প্রতিরোধের কাজ করে, তেমনি পুষ্টি পূরণেও রাখে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

চালতা টকজাতীয় ফল হওয়ায় এটি নারীদের কাছে অত্যন্ত বেশ জনপ্রিয় একটি ফল হিসাবে সমাদৃত হয়ে থাকে। চালতা দিয়ে ঝাল আচার, চাটনি তৈরি করা যায় এছাড়াও পাকা চালতা শুকনো মরিচ ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে খাওয়া যায় যা বেশ লোভনীয়।

অনেকে আবার এটি ডালের মধ্যে দিয়ে খেতে ভালোবাসেন। চালতার রয়েছে বিশেষ ঔষধি গুণাগুণ। বর্তমানে এই ফল বাজারে দেখলেও পাশ কাটিয়ে চলে যাই আমরা। চালতার যে এত গুণ শুনলে চমকে যেতে পারেন।

লিভার এবং হার্টের টনিক

চালতা ফলের অনেক উপকারিতা রয়েছে। চালতাকে লিভার এবং হার্টের টনিক হিসেবে মনে করা হয়। চালতায় ক্যালসিয়াম ও শর্করা বিদ্যমান ।

কোলেস্টরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

চালতা ক্ষতিকারক কোলেস্টরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কুসুম কুসুম গরম পানিতে চালতার রস আর একটু চিনি মিশিয়ে খেয়ে নিন, এটি রক্ত পরিষ্কারক হিসেবেও দারুণ কাজ করে থাকে। চালতা গাছের কষ বা আঠায় ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ের উপাদান রয়েছে।

জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশি নিরাময় করে

গলা ব্যথা, জ্বর বুকে কফ জম্যা কিংবা সর্দি প্রতিরোধে চালতার আছে এক অনন্য গুণ। চালতা গাছের ছাল গুঁড়া করে খেলে কফ ও সর্দি ভালো হয়।

রক্তের সংবহন ঠিক রাখতে

মানবদেহে রক্তের সংবহন ঠিক রাখতে চালতা হতে পারে এক দারুণ উপকারী চালতা ফল।

বদহজম ও কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে

চালতা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ডায়রিয়া, বদহজম কিংবা কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে চালতা খান, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। পাকস্থলীতে যাদের আলসার আছে, তাদের জন্য দাওয়াই হতে পারে চালতা। ডায়রিয়া ও বদহজমে চালতা খান, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বাতের ব্যথায়

বাতের ব্যথাতে কচি চালতার রস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া হাড়ের যেকোন সংযোগস্থলের ব্যথা কমাতেও খেতে পারেন।

জরায়ু ও স্তনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে

এটি মহিলাদের জন্য উপকারী। কারো কারো মতে, চালতা গর্ভপাত পরবর্তী সমস্রাগুলো প্রতিরোধে সহায়তা করে। এমনকি এটি জরায়ু ও স্তনের ক্যান্সার পর্যন্ত প্রতিরোধ করে।

শুক্রাণুর স্বল্পতা নিরাময় করে

পুরুষের অকাল বীর্যস্খলন, দুর্বলতা ও শুক্রাণুর স্বল্পতা নিরাময়ে চালতা উপকারী ভূমিকা রাখে। প্রতি ১০০ গ্রাম চালতায় ১৪০ কিলোক্যালরি শক্তি আছে, যা কিনা শক্তিবর্ধক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

কিডনি ভালো রাখে

রক্ত পরিশোধন ও ডিটক্সিফিকেশনে চালতা সহায়তা করে। এছাড়া যাদের কিডনিতে সমস্যা রযেছে, তারা নিয়মিত চালতা খেলে উপকার পাবেন। এছাড়াও স্কার্ভি, অন্ত্রে কৃমি, কানের যেকোন সমস্যায় কিংবা পাকস্থলীতে আলসার সমস্যা সমাধানে চালতা বিশেষ কার্যকারী ভুমিকা পালন করে।

ত্বকের যন্ত্রণা প্রশমিত করে

চালতা প্রাকৃতিক এসিড যেমন-অক্সালিকম, ট্যানিক, ম্যালিক এবং সাইট্রিক এসিডে সমৃদ্ধ। এটা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ভিটামিন-এ, বি ও সি এর ভালো উৎস। চালতার পাতাস্থ তেল ত্বকের সংকোচনে এবং এর আঠা ত্বকের ক্ষতজনিত যন্ত্রণা প্রশমিত করতে ব্যবহৃত হয়।

 

সূত্র: দৈ/যু

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১