সর্বশেষ :

জবা ফুলের চা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৪, ২০২৩ । ৪:০৭ অপরাহ্ণ
জবা ফুলের চা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

মন ভালো করতে ফুলের জুড়ি নেই। মানসিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে ফুল। সুন্দর ঘুমের জন্যও সাহায্য করে ফুল। কিছু ফুল আছে যা খাওয়া যায় এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এমনই একটি ফুল হচ্ছে জবা ফুল।

বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এবং চুলের যত্নে জবা ফুল চমৎকার কাজ করে। জবা একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুল। গোলাপী, সাদা, লাল, হলুদ ইত্যাদি নানা বর্ণের জবা ফুল পাওয়া যায়।

ইংরেজিতে জবা ফুলটি হিবিসকাস নামে পরিচিত, হিন্দিতে একে গুধল নামে পরিচিত। জবা ফুলে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডস, ফ্ল্যাভানয়েডস, ফেনোলিক অ্যাসিড, অ্যান্থোসায়ানিনসে উপাদান। এছাড়াও, প্রোটিন, ক্যারোটিন, তেল, ভিটামিন এবং স্যাকারাইড জাতীয় পুষ্টিগুলোও জবা ফুলে রয়েছে। জবা ফুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।

জবা ফুল প্রধানত পাচনজনিত সমস্যা এবং মহিলাদের মধ্যে প্রজনন সমস্যা মোকাবিলা করতে ব্যবহৃত হয়। জবা ফুলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এই গুণাবলীর কারণে, এটি এতগুলো সমস্যার পক্ষে কার্যকর প্রমাণিত হয়। জবা ফুল নারকেল তেলের সঙ্গে বেটে চুলে লাগালে চুল ভালো হয়।

তেমনই জবা ফুলের চাও কিন্তু খুব ভালো। ত্বক, শরীর দুই ভালো রাখে। লোকেরা জবা ফুলের রস, চা এবং অন্যান্য খাবারের আইটেম হিসাবে ব্যবহার করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাল জবা আয়ুর্বেদ ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে জবা ফুলের চা রোগ নিরাময়ের কাজ করে।

জবা ফুলের মধ্যে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। থাকে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। যা আমাদের ত্বকের জন্য খুব ভালো। আর তাই এই লাল জবা দিয়ে চা বানিয়ে নিলে তা কিন্তু শরীরের জন্য খুব ভালো।

যেভাবে এই চা বানাবেন

বাড়িতে এই জবা চা বানিয়ে নেওয়া কিন্তু খুবই সহজ। তিন থেকে চারটে জবাফুল আর একটা ছোট পাতিলেবু নিন। দুকাপ পানি আর ১ থেকে দু চামচ মধু লাগবে।

প্রথমেই যা করবেন

পানি বসিয়ে ফুলের পাপড়ি গুলো ছিঁড়ে দিন। ভালো করে ফুটে এলে ছেঁকে নিন। এবার ওর সঙ্গে লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে নিন ভালো করে। ব্যাস আপনার জবা ফুলের চা তৈরি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই চায়ের জুড়ি মেলা ভার। সেই সঙ্গে কোলেস্টেরলও কমায়। জবাফুলের মধ্যে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তা কিন্তু লিভারের জন্য বেশ ভালো।

সেই সঙ্গে লিভারের কর্মক্ষমতাও বাড়ায়। অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর এই যৌগটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। জবাফুলে থাকা বিশেষ একটি যৌগ ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যধিকেও প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া জবা ফুল আর কী কী কাজে লাগে এই চা?

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

বায়ো কেমিক্যাল ও বায়ো ফিজিক্যাল রিসার্চ কমিউনিকেশনস এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, জবা ফুল থেকে তৈরি উপাদান ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জবা ফুলে থাকে ফেরুলিক এসিড যা এক ধরণের পলিফেনল এবং এটি ডায়াবেটিসের জন্য চিকিৎসা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

কোলেস্টেরল কমায়

রক্তচাপ বাড়লে এবং খাওয়াদাওয়া নিয়মমতো না হলেই বাড়ে কোলেস্টেরল। সেখান থেকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়ে। জবার চা হার্টে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। কোলেস্টেরলও জমতে দেয় না। এছাড়া ব্রেন ও হার্টের কোনও রকম ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায় জবা ফুলের চা।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

ওজন কমানোর অভিপ্রায় নিয়ে শরীরচর্চা করছেন কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে জবা ফুলের চা কিন্তু আপনার কাজে লাগতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, বিপাক হারের মান ভাল করতে পারে জবাফুলের মধ্যে থাকা যৌগগুলি।

বিপাক হার ভাল হলে ওজন তো কমেই পাশাপাশি নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে, তা-ও নিয়ন্ত্রণ করে জবা ফুলের পাপড়ি দিয়ে বানানো চা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন? সকালবেলা জলখাবারের পর নিয়মিত ওষুধও খেতে হয়? চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ যেমন খাচ্ছেন, তার সঙ্গে খেতে শুরু করুন জবা ফুলের চা। অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ এই চা খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে উদ্বেগ, ‘হাইপার টেনশন’-এর সমস্যা।

মূত্রনালি সংক্রমণ রোধ করে

বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায় খুব বেশি। মূত্রনালির সংক্রমণ কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বার বার নানা কারণে এই জাতীয় ওষুধ খাওয়াও ভাল নয়। তাই মূত্রনালির সংক্রমণ যদি খুব মারাত্মক আকার ধারণ না করে থাকে সে ক্ষেত্রে জবাফুলের চা খেয়ে দেখতে পারেন।

চুল পড়ে যাওয়া কমায়

চুল পড়া রোধে জবা ফুলের পাপড়ি ব্যবহার করা খুবই প্রাচীন প্রতিকার। জবা ফুলের তেল চুলের গোড়া শক্ত করে কারণ এতে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম আছে। এই তেল আস্তে আস্তে মাথার তালুতে মালিশ করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় ও মাথার ত্বক পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে।

অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া রোধ করে

এশিয়ান জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিক্যাল সাইন্স এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, জবা চুল সাদা হয়ে যাওয়াকে ধীর করতে পারে। কিছু জবা ফুল পানিতে দিয়ে ২০ মিনিট ফুটানোর পর ঠাণ্ডা করে নিন।

জবাফুলকে পেস্ট করে নিয়ে মাথার তালুতে ও চুলে লাগান এবং ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এটি ব্যবহার করুন এবং জবার তেল অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া রোধ করে।

ব্যথা কমায়

শরীরের ব্যথা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে জবা ফুল। এজন্য ৫টি লাল জবার পাতা ও ৫টি পাপড়ি নিয়ে পানিতে দিয়ে ৩-৫ মিনিট ফুটানোর পর মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। আধা ঘন্টা পরে এটি পান করুন। ২১ দিন পর্যন্ত এই মিশ্রণটি পান করলে শরীরের ব্যথা কমবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে

লাল জবার পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখুন। প্রতিদিন পানি বা দুধ বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে মুখ পরিষ্কার হয়, মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখার আবির্ভাব রোধ করে।

শুষ্ক ত্বকের নিরাময়ে

নারিকেল তেল বা তিলের তেলের সাথে জবার পাপড়ি দিয়ে তাপ দিন। তারপর এটি ঠান্ডা হলে শুষ্ক ত্বকে লাগান। এটি শুষ্ক ত্বককে নিরাময় করবে এবং যেকোন ধরণের ফাটাও ভালো করবে।

লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে

সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে জবা ফুলে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। এর ফলে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ে। সেই সঙ্গে অনেক উপকারও পাওয়া যায়। ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

পিরিয়ডের সমস্যা মেটায়

মাসের এই বিশেষ সময় যদি নিয়মিত জবা ফুল দিয়ে বানানো চা খাওয়া যায়, তাহলে পিরিয়েড ক্র্যাম্প এবং যন্ত্রণা অনেকটাই কমে। সেই সঙ্গে অন্যান্য অস্বস্তিও দূর হয়। প্রসঙ্গত, হরমোনাল ইমব্যালেন্স কমাতেও এই পানীয়টি দারুন কাজে আসে। তাই মেয়েরা যদি প্রতিদিন এই চাটি পান করতে পারেন, তাহলে দারুন উপকার মেলে।

মানসিক অবসাদ কমায়

নানা কারণে মনটা কি বেজায় খারাপ? তাহলে ঝটপট এক কাপ জবার চা বানিয়ে ফেলে পান করে ফেলুন। এমনটা করলে দেখবেন মুড একেবার ফ্রেশ হয়ে যাবে। কারণ এতে উপস্থিত উপকারি ভিটামিন এবং মিনারেল স্নায়ুতন্ত্রে তৈরি হওয়া প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি অ্যাংজাইটি কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

 

সূত্র : ঢা/টা

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১