বগুড়ার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩


জাহিদ হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩ । ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
বগুড়ার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩

বগুড়া সদর থানা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর সাবেক কাউন্সিলর পুত্র ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সহিত জড়িত তিনজনকে আটক করেছে বগুড়া জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিগন হলেন, বগুড়া শহরের নিশিন্দারা পূর্ব পাড়া এলাকার মিলু শেখের ছেলে সাকিব সেখ ও সানমুন শেখ ওরফে সালমন এবং একই এলাকার হাতেম আলীর ছেলে হিমেল শেখ।
বুধবার (১৩/১২/২০২৩) বেলা ১১ টায় বগুড়া  পুলিশ সুপারের কার্যালয় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) স্নিগ্ধ আখতার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সব তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর রাত আনুমানিক রাত দশটার দিকে বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়া এলাকায় বগুড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী আরিফকে কুপিয়ে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতকারীরা।
পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, আরিফের ভাগ্নে মাহিনের সাথে কথা কাটাকাটির জের ধরে গত ৭ অক্টোবর সাকিবকে চাকু মেরে গুরুতর আহত করে আরিফ। এই ঘটনায় সাকিবের বাবা মিলু বাদী হয়ে আরিফকে প্রধান আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ আরিফকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান। কারাগারে ১৮ দিন থাকার পর আরিফ জামিনে বের হয়ে আসে।
অপরদিকে সাকিব ও তার বন্ধুরা মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর রাতের আনুমানিক  দশটার দিকে বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ায় আরজু ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কশপের সামনে হাসুয়া, এসএস পাইপ ও লোহার রড নিয়ে  দুষ্কৃতকারীরা অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর আরিফ ঘটনা স্থলে পৌঁছালে তার পথ রোধ করে কুপিয়ে হত্যা করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।
হত্যাকান্ডের পর আসামিরা প্রথমে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকেন। এমনকি তারা হিলি বর্ডার দিয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর তারা পরিকল্পনা করে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করেন। মূলত তাদের পরিকল্পনা ছিল মসজিদে থেকে অবস্থানরত তাবলীগ জামাতের মুসলিম সেজে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপন করবে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর থানার টিম এন্টি টেরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হবে এছাড়াও এ ঘটানার সঙ্গে জড়িত সকল পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম, বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহীনুজ্জামান।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১