বড়লেখায় বাঁশ বেতের তৈরি ধুছনিতে দই


কপিল দেব, মৌলভীবাজার বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১২, ২০২৩ । ৭:৩২ অপরাহ্ণ
বড়লেখায় বাঁশ বেতের তৈরি ধুছনিতে দই

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ধুছনির দই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। বাঁশ বেতের তৈরি ধুছনিতে দই খেতে দুবদুরান্ত থেকে আসছেন মিহারী গ্রামে আসছেন পুরুষ মহিলা থেকে শুরু করে শিশু কিশোররা।

বাঁশ বেতের তৈরি ধুছনিতে ভিন্ন স্বাদের দই বানিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মিহারী গ্রামের গৌরাঙ্গ দাস ঝাড়ন ও তার পরিবার। দেখতে চমৎকার স্বাদেও ভিন্নতা থাকায় লোকজন হুমড়ি খেয়ে ধুছনির দই কিনতে ভিড় করছেন। অনেকে ফোনে দই কেনার অর্ডার করছেন।ভালো বেচা কেনায় পরিবারের সবাই খুশি।

সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের মিহারী গ্রামে গেলে দেখা যায়, গৌরাঙ্গ দাস ঝাড়ন সেই ভোরের আলো ফুটতেই ঘর থেকে হাড়ি-পাতিল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন মহিষের দুধ সংগ্রহের কাজে।

হাকালুকির হাওড় পাড়ের এই গ্রাম সেই গ্রাম ঘুরে আর্থিক সঙ্গতি অনুযায়ী মহিষের দুধ কিনে তা নিয়ে বাড়ি ফিরতে দুপুর গড়িয়ে যায়। সেই বাপ-দাদার আমল থেকেই এভাবেই তার এ পরিবার দুধ সংগ্রহ করে আসছে। আর এ দুধ থেকে স্বাভাবিক নিয়মে দই বানিয়ে বিক্রি করে তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

জানা যায়, কয়েক বছর আগেও তিনি মাটির হাড়িতে দই তৈরি করে বিক্রি করতেন। তবে মাটির হাড়ি হরহামেশা সহজেই ভেঙে যায়। তাইতো একটু কায়দা করে নান্দনিকভাবে বাঁশ-বেতের ঝুড়িতে দই বসানোর চিন্তা আসে তাদের মাথায়। প্রতিবেশী এক নারীর সহায়তায় নান্দনিকভাবে বিভিন্ন আকার আকৃতির বেত-বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করা হয়। আর এতে বসিয়ে দেয়া হয় দই। দেখতে চমৎকার স্বাদেও ভিন্নতা থাকায় কয়েক বছরের মধ্যে এর ব্যাপক পরিচিতি পায়। স্থানীয়ভাবে এটির নাম হয়ে উঠে- ‘ধুছনির দই’। তবে এ দই তৈরিতেও রয়েছে একটু ভিন্নতা।

গৌরাঙ্গ দাস ঝাড়ন ও তার স্ত্রী সুমিত্রা রাণী দাস জানান, সংগ্রহ করা এ দুধ হাড়িতে বসিয়ে খড়ি-কাঠির চুলোয় অনবরত নাড়তে হয়। এভাবে টানা প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় এ দুধ জ্বাল দেয়া হয়। তারপর এ দুধ গাঢ় বাদামি রঙ হয়ে গেলে- দই তৈরির উপযুক্ত হয়ে ওঠে। আগে থেকে তৈরি করে রাখা বাঁশ বেতের বিভিন্ন আকৃতির ধুছনির ভিতরের ছিদ্র ময়দার প্রলেপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে ঘন দুধ ধুছনিতে ঢেলে সাজানোর পর জমাট বেঁধে দইয়ে রূপান্তরিত হয়। এটিই হচ্ছে- বর্ণির ‘ধুছনি দই।

গৌরাঙ্গ দাস ঝাড়ন জানান, ক্রেতার পছন্দমতো মিষ্টি-টক  দই বানিয়ে দেয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে গৌতম দাস ঝাড়নসহ পরিবারের সবাই জানান, এ দইয়ের ব্যাপক চাহিদা। তবে আর্থিক অস্বচ্ছলতা, মহিষের দুধ সংকট ও বাঁশ-বেতের তৈরি ধুছনি অভাব তীব্র থাকায় দই তৈরিতে তারা চরম বেকায়দায় রয়েছেন।

তাদের দাবি, সরকারের কিছু সহায়তা পাওয়া গেলে ঐতিহ্যবাহী এ পেশা তারা টিকিয়ে রাখতে পারবেন।

এ দিকে লোকমুখে প্রচারে চাহিদা বেড়ে গিয়ে বিক্রিও হচ্ছে ভালো। অনলাইনে দেখে দই কিনতে আসা কমলগঞ্জ উপজেলার মোহিত মিয়া, কুলাউড়ার ভূকশীমইল গ্রামের তানিম,শাওন, শিমুল, বিয়ানীবাজারের জাফর আহমেদ,মৌলভীবাজারের মইনউদ্দিন আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ধুছনিতে দই এটি একটি ব্যতিক্রম ধর্মী বিষয়। তাই ৩০০ টাকা দিয়ে দুই কেজি দই কিনেছেন। তবে তুলনা মুলক ভাবে প্রতি কেজি দই এর মুল্য বেশী হয়ে গেছে।

বিয়ানীবাজার থেকে স্বপরিবারে দই খেতে আশা রাহেলা আক্তার বলেন, একটি গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার হচ্ছে উৎপাদিত দই এর বিআরটিসি থেকে পরীক্ষা করে কোন মান নিয়ন্ত্রন করা হয়নি। এই দই কতটুকু স্বাস্থ্যের জন্য ভাল তাও বুঝা যাচ্ছেনা। আর আয়কর ও ফাঁকির বিষয়টিও দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১