সর্বশেষ :

কুষ্টিয়ায় অসুস্থ গরু জবাই করে বিক্রি, কসাইয়ের ১০ হাজার টাকা জরিমানা


সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৯, ২০২৩ । ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় অসুস্থ গরু জবাই করে বিক্রি, কসাইয়ের ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় রাতের আধারে আধমরা অসুস্থ গরু জবাই করে ৬/৭ ঘন্টা পর মাইকিং করে সে মাংস বাজারে বিক্রির অভিযোগে জুয়েল ইসলাম নামে এক কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে কোনো মাংস জব্দ করা হয়নি। আজ শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনার আগেই কিছু মাংস বিক্রি ও অবিকৃত মাংসগুলো সরিয়ে ফেলেন কসাই ও তার লোকজন। পরে কসাই কসাই মো. জুয়েল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জুয়েল বটতৈল ইউনিয়নের মো. আখের আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে অধমরা অসুস্থ গরুটি জবাই করে রেখে দেয়। ৬/৭ ঘন্টা পরে সকালে মাইকিং করে ৫ শত ৫০ টাকা কেজি ওই মাংস বিক্রি করছিলো। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনকে খবর দেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা আরো জানান, কবুরহাট বাজারে প্রায়ই অসুস্থ গরু গোপনে জবাই করে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়াও বাজার মূল্যের চেয়েও সেখানে মাংসের মূল্য বেশী হাকানো হয়। যে কারনে সেখানকার কসাইদের প্রায়ই ক্রেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) দবির উদ্দিন বলেন, ‘সদর উপজেলার কবুরহাট বাজারে একটি অসুস্থ গরু (এলএসডি) জবাই করে তা বাজারে মাইকিং করে বিক্রি করছিলো কসাই মো. জুয়েল ইসলাম। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর দোকান পরিদর্শনে যাই। সেখানে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির সত্যতা পেয়ে কসাইকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে মাংস নষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু কতটুকো মাংস নষ্ট করা হয়েছে তা জানা যায়নি!

স্থানীয় জগতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আলিম বলেন, অভিযানের আগেই প্রায় সব মাংস বিক্রি হয়ে যায়।পরে গরুর মাথা সহ অবশিষ্ট যেটুকু মাংস ছিল সব নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং এসিল্যান্ড স্যার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং পরবর্তীতে এ ধরনের অপরাধ না করার জন্য সতর্ক করে দেন।

এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় কিছু মাংস ব্যবসায়ী প্রায় খাওয়ার অনুপযোগী অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। এসব মাংস বিক্রির জন্য অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিংবা বাসাবাড়ির ফ্রিজে রাখা হয়। সেগুলো নতুন জবাইকৃত মাংসের সাথে মিশিয়ে হাটে আবার বিক্রি করা হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন একটা সাড়া মেলে না। এ ছাড়াও কিছু কসাইয়ের গরু চোর চক্রের সক্ষতা রয়েছে। যে কারনে গরু ছাগল চুরি করে ওই কসাইদের কাছে পৌঁছে দিলেই রাতের আধারেই গোপনে তা জবাই হয়ে হাটে বাজারে সে মাংস প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে হর হামেশাই।আর স্থানীয় সরকারের ইউনিটগুলোর নীরব ভূমিকার কারণে ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠছে কুষ্টিয়ার আনাচে-কানাচেতে হাটবাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১