সর্বশেষ :

চুয়াডাঙ্গা হানাদার মুক্ত দিবস আজ


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২৩ । ২:০১ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গা হানাদার মুক্ত দিবস আজ

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ পালিত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস। মুক্তিযুদ্ধে জীবন আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সকাল ৭টায় শহরের শহীদ হাসান চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রথমে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে শত্রুমুক্ত করে বাংলার দামাল ছেলেরা। সেদিন থেকেই চুয়াডাঙ্গার আকাশে উড়ে বিজয়ের কেতন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সুতিকাগার বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী চুয়াডাঙ্গা। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানী  হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে চুয়াডাঙ্গা শত্রুমুক্ত করেন বাংলার মুক্তিসেনারা।

এদিন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা অভিমুখে পালিয়ে যায়। হানাদার মুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ দিনটিকে স্থানীয়ভাবে মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে হানাদার বাহিনীর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের পরই চুয়াডাঙ্গার হাজার হাজার মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন।

একই রাতে যশোর সেনানিবাস হতে একদল সৈন্য কুষ্টিয়া শহর দখল করে নেয়ার খবরে মুক্তিযোদ্ধারা শহর রক্ষার জন্য শহরের প্রবেশ পথগুলোতে গাছের ডাল ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

একই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনসার, মুজাহিদ ও স্বেচ্ছা সেবকদের শহরের টাউন হলে একত্রিত করে চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি থেকে সকল অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করা হয়।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গা শত্রুমুক্ত থাকার খবর শুনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে  মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ভারত গমনের উদ্দেশে একমাত্র সঙ্গী ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামকে নিয়ে ৩০ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় আসেন।

এসময় তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলেচনায় সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে চুয়াডাঙ্গাকে যুদ্ধকালীন সময়ের জন্য বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা মুক্ত থাকার সুবাদে ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রণাঙ্গনের অন্যতম যুদ্ধাঞ্চল।

বিদেশি সংবাদিকদের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা ডেটলাইনে বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা পাকিস্তানী বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়। ৩ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার ওপর প্রথম বিমান হামলা চালানো হয়।

১০ এপ্রিল ভারতের আগরতলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ২৮ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এক সভায় অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল চুয়াডাঙ্গায় করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

যদিও সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই খবরটি দ্রুত বিদেশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানী বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয় চুয়াডাঙ্গা।

এরপরই মূলত চুয়াডাঙ্গার ওপর ব্যাপকভাবে বিমান হামলা চালাতে শুরু করে হানাদার বাহিনী। একই সঙ্গে যশোর সেনানিবাস থেকে হানাদার বাহিনীর একটি দল ১৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করে। চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশের পরই হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অগণিত মানুষকে হত্যা করে শহর দখলে নেয়। এ খবরে দ্রুত দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের সদর দপ্তর চুয়াডাঙ্গা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন যুবনেতা বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুনের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গার তরুণদের একত্রিত করে ২২ এপ্রিল ভারতের হৃদয়পুর শিবিরে ১২০ জন যুবক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম ক্যাম্প চালু করা হয়। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১ জুলাই বাংলাদেশের সমগ্র যুদ্ধাঞ্চলকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তারা যে যেখানে যুদ্ধরত ছিলেন, তাকে সে অঞ্চলের দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই এলাকার সব উপদলকে একক অধিনায়কত্বের আওতায় আনা হয়। চুয়াডাঙ্গা ৮ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত হয়। চলতে থাকে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রণাঙ্গনে সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধ।

৫ আগস্ট চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহের কাছে বাগোয়ান গ্রামে পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে পিন্টু, হাসান, খোকন, কাশেম, রবিউল, রওশন, তারিক ও আফাজউদ্দিন নামে আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাদের জগন্নাথপুর গ্রামের দুটি কবরে দাফন করা হয়।

যা এখন আট কবর নামে পরিচিত। এছাড়া ৭ আগস্ট জীবননগর থানার ধোপাখালি সীমান্তে নিয়মিত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তানী বাহিনীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাঁচজন শহীদ হন। সেপ্টেম্বরে ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল মনজুর দায়িত্ব নেন। তিনি যুদ্ধ বেগবান করা ও বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে যুদ্ধ কৌশলে পরিবর্তন আনেন।

২৬ নভেম্বর পাকিস্তানী বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে জীবননগরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৪ ডিসেম্বর মুক্ত হয় জীবননগর ও দর্শনা।

৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা থেকে শত্রুদের হটিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিকামী মানুষ। বিজয়ের বেশে চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। স্বদেশের পতাকা উড়িয়ে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে আনন্দ উল্লাস করে এলাকার মুক্তিকামী মানুষ।

 

সূত্র : বাসস

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১