সর্বশেষ :

ভারতীয় পণ্যে অবৈধ আমদানিতে হুমকির মুখে সরকারের রাজস্ব আয়


হুমায়ুন ফরিদ, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ । ৩:১৭ অপরাহ্ণ
ভারতীয় পণ্যে অবৈধ আমদানিতে হুমকির মুখে সরকারের রাজস্ব আয়

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত চোরাই পথে ভারত থেকে অবাধে বাংলাদেশে আসছে ভারতীয় পণ্য। অবৈধ পথে শুল্ক না দিয়ে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার মালামাল আসছে। তবে আগে এসব রাতের আঁধারে আসলে ও এখন তা দিনের বেলা প্রকাশ্যেই চলছে রমরমা চোরাই পণ্য আমদানী। পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে।

দোয়ারাবাজার লক্ষীপুর ইউনিয়ন এলাকার স্থানীয় লোকজন বলছেন, কথিত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও থেমে নেই সীমান্তের চোরাচালান। তারা বলছেন, ভারত থেকে গরুর পাশাপাশি ভারতীয় শাড়ী, থ্রি-পিস, কসমেটিকস এবং চিনিসহ ভারতী পণ্য আসছে প্রচুর। ভারতীয় এসব চোরাই পণ্যের দখলে চলে গেছে বাংলাদেশের বাজার। বলা চলে অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ছে মাঠগাঁও,ভাঙ্গাপাড়া সীমান্ত এলাকা।

অভিযোগ আছে, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মাঠগাঁও, ভাঙ্গাপাড়া সীমান্তে নিয়োজিত কতিপয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে চোরাচালান সিন্ডিকেট অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য আনছে। আগের তুলনায় এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেট এখন আরও সক্রিয়। দেদারসে দেশে ঢুকছে ভারতীয় পণ্য। জানা যায় চোরাকারবারি চক্র বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যকে ম্যানেজ করে এসব সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসছে। ফলে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকার শুল্কক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর কয়েক কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। এর ৮০ ভাগই ভারত থেকে এসেছে। কিন্তু এসব পণ্য বৈধপথে আসেনি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে ঢুকছে ভারতীয় পণ্য। আর এভাবে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের অবৈধ আমদানির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় শিল্পোৎপাদন। অবৈধ পথে আমদানিকারকদের শুল্ক পরিশোধ করতে হয় না।

ব্যবসায়ীরা জানান, চোরাই পণ্য বিক্রিতে লাভ বেশি। শুল্ক ছাড়া এসব পণ্যের বাজার মূল্য অনেক কম থাকে। এ কারণে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারতীয় পণ্যের কাছে মূল্য ও মানে অনেক দেশীয় পণ্য মার খাচ্ছে। এ ছাড়া বৈধপথে আমদানিকারকরাও এতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বেশি লাভজনক হওয়ায় বৈধ আমদানির চেয়ে অবৈধ আমদানির দিকেই ঝুঁকছেন ব্যাবসায়ীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, সারা বছরজুড়েই চোরাই পথে ডুকে প্রায় শতাধিক ভারতীয় পণ্য।

মাঠগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের পরিচালক, তাজুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, চোরাকারবারিদের সাথে বিজিবি সদস্যদের যোগসাজশের কথা তিনি অস্বীকার করেন। তবে প্রশ্ন যেখান উঠেছে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে বিজিবি’র কোন সদস্য এই চোরাকারবারীদের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১