সর্বশেষ :

বগুড়ায় শীতকে ঘিরে চলছে পিঠা উৎসব


জাহিদ হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ । ২:৩৯ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় শীতকে ঘিরে চলছে পিঠা উৎসব

নভেম্বর শেষে ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের হিমেল হাওয়া শুরু। শীতকালকে ঘিরেই চলে বাঙালির অন্যরকম আয়োজন। বিশেষ করে শীত মানেই পিঠা খাওয়ার ধুম। ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা,ঝাল পিঠা,তেল পিঠা সহ হরেক রকমের পিঠা না খেয়ে আমরা বাঙালি যেন শীতকে বিদায় জানাতেই পারি না। একটা সময় শুধু গ্রাম-বাংলায় হলেও বর্তমানে শহর অঞ্চলেও জায়গা করে নিয়েছে জনপ্রিয় এ পিঠা উৎসব।

শীত লাগলেই মূলত গ্রামে-গঞ্জে চলে পিঠার মহা উৎসব। নতুন জামাইদের পিঠার সাজন অথবা জামাইকে পিঠার দাওয়াত না দিলে চলে না। জামাইদের পিঠার উৎসবে মূলত যোগ হয় দুধ পিঠা, তেল পিঠা, গ্রামের ঘরেতৈরি ভাপা পিঠা, নারকেল দিয়ে তৈরি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কুশলি পিঠা, এ সময় গ্রামে গঞ্জে পিঠা তৈরির জন্য দুধের দাম একটু বেশি হয়ে থাকে।

বগুড়া শহরে বেশ কিছু স্থানে মোটামুটি ভালোমানের পিঠা পাওয়া যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, জেলখানা মোড়, কালের বাজার, কলোনি বাজার, ও খান্দার স্টেডিয়ামের নিকট সহ শহরের বেশ কিছু স্থানে এ পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়।

সরজমিনে খান্দার স্টেডিয়ামের মোড়ের নিকট ইদ্রিস ব্যাপারির পিঠার দোকানে গিয়ে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর হলে  তিনি এই পিঠা বিক্রি করে। তার বাড়ি খান্দার, সাতটি চুলাই বিকেল থেকে রাত অব্দি তিনি পিঠা তৈরি করেন তিনি। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার এই পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় ইদ্রিস ব্যাপারী । তিনি তার সন্তানসহ মোট পাঁচজন কর্মী এই পিঠা ব্যবসায় সহযোগিতার জন্য রেখেছেন। যাদের বেতন প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকার মত। হরেক রকম পিঠার ব্যবসা করেন তিনি, বিকাল থেকেই তার এই সুস্বাদু পিঠা খেতে গ্রাহকরা ভিড় জমায় তার দোকানে। হরেক রকম পিঠার হরেক রকম দাম, যেমন, কুশলি পিঠা প্রতি পিস ১০ টাকা। কুশলি পিঠা সাধারণত দুই রকম হয়ে থাকে একটি মিষ্টি অপরটি ঝাল। চিতই পিঠা ১৫ টাকা, তেলপিঠা ১৫ টাকা, ঝাল পিটা ১৫ টাকা, ভাপা পিটা ১৫ টাকা, ডিম পিঠা ৩৫ টাকা দামে বিক্রি করেন তিনি। মূলত শীতের তিন মাসেই তিনি এই পিঠার ব্যবসা করেন।

অপরদিকে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা আর এই সাতমাথায় সন্ধ্যা লাগলেই হরেক রকমের খাবারের দোকান আর হরেক রকম মানুষের হরেক রকম খাবারের চাহিদা। সন্ধ্যা লাগলে যেন বিভিন্ন অঞ্চলের লোক এখানে জামায়াত হয়। সাত মাথার আশপাশে ঘিরে ১৫ টি থেকে ২০ টি ভাপা তৈরীর অস্থায়ী দোকান দেখা যায়। এসব ভাপা পিঠা মূলত বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। এ অস্থায়ী দোকানগুলো শীতকে ঘিরেই স্থাপন করা হয় সাতমাথা এবং সাত মাথার আশপাশ জুড়ে।

এছাড়াও বগুড়া এবং বগুড়ার আশেপাশে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এই শীতকালীন পিঠা পাওয়া যায়। বগুড়া শহরের থানা মোড়ে অবস্থিত আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেলে গিয়েও দেখা মেলে এই শীতের পিঠা, যেমন, শাহি পিঠা প্রতিপিছ ২৫ টাকা, খাস্থা পিঠা প্রতি পিছ  ২৫ টাকা, তৈল পিঠা প্রতিপিছ ২৫ টাকা, পাটিসাপটা পিঠা প্রতিপিছ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুশলী পিঠা প্রতিপিছ ২০ টাকা, ঝাল কুশলী পিঠা প্রতি পিছ ২০ টাকা, ভাপা পিটা প্রতিপিছ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে মূলত সন্ধ্যার থেকে রাত লাগার আগেই পিঠাগুলো শেষ হয়ে যায়।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১