বৈধ হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার হলফনামায় পাওয়া গেছে গরমিল


এনামুল হক, জেলা ক্রাইম রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ । ৭:২৯ অপরাহ্ণ
বৈধ হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার হলফনামায় পাওয়া গেছে গরমিল

আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার যাচাই-বাছাই করে বৈধ হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর দেওয়া হলফনামায় তথ্যের গড়মিল পাওয়া গেছে। তার ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় টাকা নেই উল্লেখ করা হয়। এমনকি ৭০ লাখ টাকা ঋণের পরিবর্তে লেখা হয় ৭ লাখ। আর প্রার্থীর কাছে নগদ কোনো টাকা নেই বলেও হলফনামায় দেখানো হয়। তবে প্রার্থীর দাবি সব কাগজ দিয়েছেন তবে লেখায় গড়মিলেই এই ত্রুটি হয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া প্রার্থীর নাম শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কিছুদিন আগেই উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বর্তমান রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

এই স্বতন্ত্র প্রার্থী আসন্ন জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তাতে উল্লেখ করেন তার কাছে নগদ ও ব্যাংকে কোনো টাকা নেই।

তবে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, জনতা ব্যাংকের মুড়াপাড়া শাখায় শাহজাহান ভূঁইয়া নামের ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাংক হিসাব নম্বরে চলতি বছরের জুলাই থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত লেনদেন ছিল। এখনও ব্যাংকে তার সঞ্চিত রয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া উপজেলার কাঞ্চন শাখা প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে শাহজাহান ভূঁইয়া ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম চলতি বছরেই দুই ভাগে ৭০ লাখ টাকা যৌথভাবে ঋণ নিয়েছেন। যা ব্যাংকের ওই শাখায় তাদের হিসাব নম্বরে লেনদেন করা হয়।

তবে এদিকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই প্রার্থীর আয় বেড়েছে প্রায় ১৭ গুণ। আর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৮৮ গুণের চেয়েও বেশি। হলফনামায় পেশায় ব্যবসায়ী শাহজাহান ভূঁইয়ার ব্যবসা, বাড়ি, দোকানভাড়া, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাতে বর্তমানে বাৎসরিক আয় ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী তার বাৎসরিক আয় ছিল মাত্র ৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৩০ টাকা। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার আয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও তার ওপর নির্ভরশীলদের কোনো আয় উল্লেখ করা নেই হলফনামায়।

অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি কেবল ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও অন্যান্য বাবদ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তার নামে ব্যাংকে কোনো টাকা নেই বলে দেখিয়েছেন। এমনকি তার কোনো নগদ টাকাও নেই। এমনকি তার স্ত্রীর নামেও কোনো অর্থ বা স্বর্ণালঙ্কার নেই বলে জানিয়েছেন। যদিও ৫ বছর আগে তার কাছে নগদ টাকা ছিল ২৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৩২ টাকা। একই পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা ছিলো। আগে তার স্ত্রীর কাছে ৪৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। আগে তার নামে স্থাবর সম্পদ হিসেবে কেবল ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৩ বিঘা জমি ছিল। বর্তমানে তার স্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩০ টাকা। যা পূর্বের সম্পদের তুলনায় ৮৮ গুণ বেশি। যদিও গত ৫ বছর পূর্বে যৌথ মালিকানায় ৩২ বিঘা জমির মধ্যে ১২ বিঘা নিজের নামে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। যার বাজারমূল্য তিনি দেখাননি।

রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ার জনতা ব্যাংকের শাখায় তার টাকা থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় কেন উল্লেখ করেনি জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, আমি রির্টানের কাগজসহ ওই ব্যাংকে টাকা তথ্য দিয়েছি, সঙ্গে সার্টিফাইট কপি দিয়েছে। যদি তথ্য না দিতাম তাহলে তো আমার মনোনয়ন পত্র বৈধতা দিত না। হয়তো যিনি হলফনামা প্রস্তুতকারী, তিনি হলফনামার ওই ঘরে বিষয়টি উল্লেখ না করে সার্টিফাইট কপি সংযুক্ত করেছেন।

আর ৭০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে ৭ লাখ টাকা কেন লেখা হলো জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, ৭ লাখ নয় তা হবে ৭০ লাখ। আমি ও আমার ছেলে ৭০ লাখ টাকা প্রিমিয়ার কাঞ্চন শাখা থেকে ঋণ নিয়েছি। এখানে একটি শূণ্যের ভুল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ কারণে গড়মিল হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে পাঁচ বছরের ব্যবধানে আয় ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রার্থী এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমি বালুর ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়েছি। আমার ব্যবসা বেড়েছে তাই ইনকামও বেড়েছে।

হলফনামায় তথ্যেও গড়মিল থাকা সত্ত্বেও কেন এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক জানান, আমরা প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই করে দেখেছি। তেমন অসঙ্গতি পাইনি। প্রার্থীরা সকালে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী তার হলফনামায় তথ্য গোপন করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও প্রার্থীর মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্রপত্র যাচাই বাছাই করা করা হয়। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূইয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১