চৌদ্দগ্রামে তথ্য গোপন করে এক শিক্ষক ২টি চাকরির অভিযোগ


আবুল কালাম মজুমদার, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩০, ২০২৩ । ৪:১৫ অপরাহ্ণ
চৌদ্দগ্রামে তথ্য গোপন করে এক শিক্ষক ২টি চাকরির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বেলাল হোসেন বর্তমানে একই উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিওড়া আজগরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষক আবার একই ব্যক্তি লালমাই উপজেলা কলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রভাষক পদে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য গোপন করে চাকরি করার অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সরজমিন তদন্ত করে জানা যায়, বেলাল হোসেন চিওড়া আজগরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় ২ মাসের ছুটির আবেদন করে। ছুটিতে থাকাকালীন অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তবে কলামিয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান বিষয়টি জানলেও উনার বিরুদ্ধে কোন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্হা নেননি।

কলামিয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বেতনের নথি সংগ্রহ করে জানা যায়, গত ২৪শে জুলাই থেকে উনার ব্যাংক হিসাব নম্বরের মাধ্যমে বেতনের টাকা গ্রহণ করছেন। অপরদিকে চিওড়া আজগরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার বেতনের কাগজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছ বেতন উত্তোলন করছেন মোহাম্মদ বেলাল হোসেন। বেতনের প্রমাণাধি প্রতিনিধির নিকট আছে জানতে পেরে সমাধানের চেষ্টা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে চরম চাকরি সংকটে মানুষ। এখানে দুটি চাকরি করছেন একজন। সরকারি এমপিও ভূক্ত শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ড দুঃখজনক। এর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।

নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের কাছ থেকে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নিয়ে চুপচাপ ছিলেন এবং কোন রকম ব্যবস্হা নেননি।

চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার আবদুল হালিম নামে অনার্স পাশ বেকার যুবক বলেন, এটা বড় ধরনের অপরাধ এবং এসব লোকজন কে একের অধিক চাকরি করার অপরাধে শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ বেলাল হোসেন কে জানতে চাইলে বলেন, ঘটনা সত্যি। তবে আমি যে কোন মূল্যে আপনার সাথে মিমাংসা করতে চাই।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মির হোসেন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক তবে সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়ার বিকল্প থাকবে না।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শাহীনুর ইসলাম কে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আইনে কোন এমপিও ভূক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক এক সাথে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ নেই।

চিওড়া আজগরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুক আহমেদ (ভিপি) বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে একটা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে আবেদন করে তিনি। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বিষয় টা অবগত হয়ে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টা আপনার মাধ্যমে অবহিত হলাম। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০