সর্বশেষ :

অপেক্ষার অবসান শেষে কুমিল্লা-১১ আসনে নৌকার মাঝি মুজিবুল হক; পথে আছে জাপা


ইয়াছিন ফারুক ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৬, ২০২৩ । ৭:২২ অপরাহ্ণ
অপেক্ষার অবসান শেষে কুমিল্লা-১১ আসনে নৌকার মাঝি মুজিবুল হক; পথে আছে জাপা

১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে উত্তর দক্ষিণে ৪৪কিমি ও পূর্বে ভারত সীমান্ত নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের কুমিল্লা-১১  আসন (চৌদ্দগ্রাম)। শিক্ষা, সংস্কৃতির বিদ্যাপিঠ, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় ভৌগোলিক ভাবে এই চৌদ্দগ্রাম উপজেলা একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সাল থেকে সংঘটিত নয়টি জাতীয় নির্বাচন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ০৬ বার, জাতীয় পার্টি ০২ বার ও বিএনপি ০১ বার (স্বল্পকালীন সংসদ), বিএনপি জামাত জোট ০১ বার নির্বাচিত হয়।

বর্তমানে এই আসনে আওয়ামী লীগের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর মাঝে এক মেয়াদকাল অনির্বাচিত হয়ে পুনরায় ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি এমপি হিসাবে রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় একক ভাবে ক্ষমতায় থাকায় দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত, ও বঞ্চিত হয়ে কোনঠাসা হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস ও ক্ষমতায় আরোহনের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাসহ কখনো কখনো সহিংসতার সৃষ্টি হতে দেখা গেলেও অবসেসে সকল জল্পনা কল্পনা ও দলীয় বিভাজন মিটিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম আসনে নৌকার মাঝির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বহু দিনের পরীক্ষিত ও তৃনমূল থেকে পরিপক্ক রাজনীতিক সাবেক হুইপ ও মন্ত্রী মুজিবুল হক ।

অপর দিকে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকতে পারায় জনসমর্থন থাকলেও বিএনপি কার্যত সারা দেশে রাজনৈতিক ভাবে দূর্বল অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম আসনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা, উপজেলায় বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত করে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার চেষ্টা চালালেও, দলীয় কোন্দল মিটিয়ে একক ভাবে নেতৃত্ব দিতে পারছে না। যার কারণ খুঁজে দেখা যায় যে, কামরুল হুদা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দায়েরকৃত গাড়ী পোড়ানো  মামলায় কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় জামাত শিবিরের ততসময়ে কারাবন্ধী নেতা কর্মীর সাথে সক্ষতা গড়ে উঠে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায়  তাদের উপর বিভিন্ন বিষয়ে নির্ভর শীল হতে দেখা যায়, পাশাপাশি দলের পুরাতন নেতৃত্বকে অনেকটা পাশকাটিয়ে নতুন কমিটি করতে পারলেও, কামরুল হুদা দলে হাইব্রিড নেতা হিসাবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে সমালোচনা শোনা যায়।

আন্তর্জাতিক ভাবে ইসলামিক অংগনে পরিচিত ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডাক্তার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামাত জোট থেকে মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর  এলাকায় দৃশ্যত তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করতে না পারলেও তখন তাঁর ছোট ভাই টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ায় সমালোচার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে জামায়াতের নিবন্ধন না থাকায় চৌদ্দগ্রাম আসনে দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ অনেকটা অনিশ্চিত।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদের গঠিত জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা ৮০ দশকে তুঙ্গে থাকলেও বর্তমানে দলটি কেন্দ্রীয় ভাবে জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায়।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকায় সাবেক ছাত্র নেতা ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালম মজুমদারের নাম শোনা যাচ্ছে। বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায় কালম মজুমদার ইতোমধ্যে রওশন এরশাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

এরমধ্যে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এরশাদের গঠিত জাতীয় পার্টি থেকে পৃথক হয়ে ২০১৩ সালে গঠন করেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) নামে রানৈতিক দল। বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাহিদ, কাজী জাফরের উত্তরসূরী হিসেবে চৌদ্দগ্রাম আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার জন্য এলাকায় জনগনকে সংগঠিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার এডভোকেট আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্য এলাকায় বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিশেষে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধী দলগুলোর দাবি বাস্তবায়নের জন্য দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন কতটা সিদ্ধহস্ত হতে পারে তাই দেখার বিষয়।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০