কুমিল্লা-১১ আসনে কোন্দলে জড়িয়ে আছে আ’লীগ বিএনপি জাপা, নিবন্ধনহীন জামায়াত


ইয়াছিন ফারুক ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২৩ । ৮:১৮ অপরাহ্ণ
কুমিল্লা-১১ আসনে কোন্দলে জড়িয়ে আছে আ’লীগ বিএনপি জাপা, নিবন্ধনহীন জামায়াত

১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে উত্তর দক্ষিণে ৪৪কিমি ও পূর্বে ভারত সীমান্ত নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের কুমিল্লা ১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসন। শিক্ষা, সংস্কৃতির বিদ্যাপিঠ, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় ভৌগোলিক ভাবে এই চৌদ্দগ্রাম উপজেলা একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সাল থেকে সংঘটিত নয়টি জাতীয় নির্বাচন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ০৬ বার, জাতীয় পার্টি ০২ বার ও বিএনপি ০১ বার (স্বল্পকালীন সংসদ), বিএনপি জামাত জোট ০১ বার নির্বাচিত হয়।

বর্তমানে এই আসনে আওয়ামী লীগের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর মাঝে এক মেয়াদকাল অনির্বাচিত হয়ে পুনরায় ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি এমপি হিসাবে রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় একক ভাবে ক্ষমতায় থাকায় দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে স্বজনপৃতি এবং অধিকাংশ ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত, ও বঞ্চিত হয়ে কোনঠাসা হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস ও ক্ষমতায় আরোহনের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাসহ কখনো কখনো সহিংসতার সৃষ্টি হয়।

যার ফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের তৃনমুল পর্যায়ের নেতা মুজিবুল হক মুজিবের এর একক জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়।  উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি আবদুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্বাহী সদস্য  সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা সাবেক যুবলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার,  বেলজিয়াম আওয়ামী লীগ সভাপতি বজলুর রশিদ বুলু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজউদদীন সেলিমসহ একাধিক ব্যক্তি মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে এক মঞ্চে থেকে পৃথকভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সকল মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে বর্তমান এমপি মুজিবুল হক, সদ্য পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান ভূঁইয়া হাসান, সাবেক  পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদারের  সমর্থনে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সভা সমাবেশে উপজেলার পচরিচিত ও নিবন্ধিত নেতা কর্মী ও সমর্থক অংশ গ্রহণ করতে দেখা গেলেও অন্যদের আয়োজিত সভায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের অংশ গ্রহণ পরিলক্ষিত হয়নি।

দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় না থাকতে পারায় জনসমর্থন থাকলেও বিএনপি কার্যত সারা দেশে রাজনৈতিক ভাবে দূর্বল অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম আসনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা, উপজেলায় বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত করে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার চেষ্টা চালালেও, দলীয় কোন্দল মিটিয়ে একক ভাবে নেতৃত্ব দিতে পারছে না। যার কারণ খুঁজে দেখা যায় যে, কামরুল হুদা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দায়েরকৃত গাড়ী পোড়ানো  মামলায় কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় জামাত শিবিরের ততসময়ে কারাবন্ধী নেতা কর্মীর সাথে সক্ষতা গড়ে উঠে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায়  তাদের উপর বিভিন্ন বিষয়ে নির্ভর শীল হতে দেখা যায়, পাশাপাশি দলের পুরাতন নেতৃত্বকে অনেকটা পাশকাটিয়ে নতুন কমিটি করতে পারলেও, কামরুল হুদা দলে হাইব্রিড নেতা হিসাবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে সমালোচনা শোনা যায়।

আন্তর্জাতিক ভাবে ইসলামিক অংগনে পরিচিত ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডাক্তার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামাত জোট থেকে মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর  এলাকায় দৃশ্যত তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করতে না পারলেও তখন তাঁর ছোট ভাই টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ায় সমালোচার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে জামায়াতের নিবন্ধন না থাকায় চৌদ্দগ্রাম আসনে দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ অনেকটা অনিশ্চিত।

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জেনারেল এরশাদের গঠিত জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা ৮০ দশকে তুঙ্গে থাকলেও বর্তমানে দলটি কেন্দ্রীয় ভাবে জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায়।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী তালিকায় সাবেক ছাত্র নেতা ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালম মজুমদারের নাম শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আবুল কালাম মজুমদার রওশন এরশাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছে বলে জানা যায়। এরমধ্যে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এরশাদের গঠিত জাতীয় পার্টি থেকে পৃথক হয়ে ২০১৩ সালে গঠন করেন জাতীয় পার্টি ( কাজী জাফর) নামে রানৈতিক দল। বর্তমানে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাহিদ, কাজী জাফরের উত্তরসূরী হিসেবে চৌদ্দগ্রাম আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার জন্য এলাকায় জনগনকে সংগঠিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার এডভোকেট আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্য এলাকায় বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিশেষে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিরোধী দলগুলোর দাবি বাস্তবায়নের জন্য দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন কতটা সিদ্ধহস্ত হতে পারে তাই দেখার বিষয়।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০