চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে এমপি নদভী


আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৪, ২০২৩ । ১:৪৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে এমপি নদভী

চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে সাতকানিয়া লোহাগাড়া ১৫। সাতকানিয়া লোহাগাড়া দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম ১৫ এটি। কোনো এক সময়ের জামাতের ঘাঁটি বলে পরিচিত প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনে টানা গত দুইবার রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে।টানা দুই টার্ম এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনায় এ আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সাধারণ মানুষের পছন্দের জনপ্রিয়তার শীর্ষে বর্তমান সংসদ সদস্য ডক্টর আবু রেজা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত। অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরও শেষ নেই প্রধান প্রধান দলগুলোর মধ্যে। তবে প্রার্থী যিনি হোক না কেন, স্ব স্ব দলের প্রার্থীর সাথে কাজ করার কথা বলছেন দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত। প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, জাফর আহমদ চৌধুরীর মত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এ আসনে জামায়াতের কাছে পরাস্থ হন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া নির্বাচনী আসনে রাজনৈতিক, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক মাঠ চাঙ্গা রেখেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ডক্টর আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী। এবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশী তিনি ।

চট্টগ্রাম ১৪-১৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পুরুষ ১ লাখ ২ হাজার ৬০৯।মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৩৫৫ জন।
লোহাগাড়া উপজেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৭২ জন । পুরুষ ভোটার ৯৯ হাজার ২১১ জন ও মহিলা ভোটার ৯১ হাজার ২৬১ জন।দশম ও একাদশে আওয়ামী লীগ। আসনটিতে গেলো দুইবার আওয়ামী লীগ মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডক্টর আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী।ব্যক্তি ইমেজেও অন্য দলের প্রার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন তিনি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শুধু এলাকার উন্নয়নই নয়, বিপদ-আপদে এলাকার মানুষের পাশে থেকে অধিকাংশ সময় দেন নির্বাচনী এলাকায়।যার কারণে গত ১০ বছরে তুলনামূলকভাবে আওয়ামী লীগের ভোটও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দলের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। বয়স্ক ভাতা,বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা,মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, রাস্তাঘাট,স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা, মডেল মসজিদ নির্মাণ,গরীব মেধাবী ছেলেমেয়েদের নিজ খরচে পড়ালেখা করানো, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতামাতার কন্যার বিয়েতে আার্থিক সাহায্য প্রদান, অসুস্থ রোগীকে আর্থিক সহায়তা। এছাড়াও ধর্ষণ সন্ত্রাস, মাদক সন্ত্রাস, ইভটিজিংরোধে বিভিন্ন সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিশেষ ভুমিকা পালন, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়াসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করে জনপদের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন প্রিয় ব্যক্তি।

দলমত নির্বিশেষে উন্নয়ন ও দলের স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নদভীই একমাত্র দলের যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটাররা। চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি কোনো একসময়ে বিএনপির জামাতের দুর্গ হলেও এমপি নদভী’র বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ আসন এখন আওয়ামীলীগের দুর্গে পরিণত হয়েছে।১৯৯১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মূলত এ আসনটি বিএনপি-জামাতের একক দখলে ছিল।

২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন প্রফেসর ডঃ আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী।

১৯৭৩ সালের পর দীর্ঘ সময় এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল না। ২০১৪ সালে দলের দুঃসময়ে আওয়ামীলীগের হাল ধরে এমপি নদভী , এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গেলো ১০ বছরে চট্টগ্রাম -১৫ আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। এছাড়াও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে নদভীর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি নিয়মিত এলাকায় থাকেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সর্ম্পক থাকার কারণে তিনি বেশির ভাগ মানুষের কাছে প্রিয় রাজনীতিবিদ। এক সময়ে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এখন সাতকানিয়া লোহাগাড়া উপজেলায় আনাচে কানাচে উন্নয়ন, রাস্তা-ঘাট স্কুল কলেজ মাদরাসাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নতুন নতুন ভবনে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন অবহেলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তার সহযোগিতায় উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ডে তিনিও সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠেছেন।

সাধারণ মানুষের তথ্য মতে গত দুই টার্ম এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন এবং ব্যক্তি ইমেজের কারণে এ আসনে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি-আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা নিয়ে এলাকা ঘুরে কথা হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। ভোটাররা বলছেন, ব্যক্তি প্রার্থীর ক্ষেত্রে বর্তমান এমপি ডক্টর আবু রেজা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন না নদভীর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। অত্যন্ত মিশুক বলে পরিচিত এমপি নদভী’র আসনে রয়েছে বেশ সুনামও। স্থানীয় ভোটারদের অভিমত হচ্ছে এলাকায় কাজ বেশি করেছেন এমপি নদভী (বর্তমান এমপি)। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভোটারদের মতে, মমতা আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি একটা শক্ত জায়গা করে নিয়েছেন এলাকার মানুষের হৃদয়ের গভীরে।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সংসদ সদস্য এমপি নদভী ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব সিআইপি,

বর্তমান সংসদ সদস্য প্রফেসর ডঃ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, ২৩ নভেম্বর  ২০২৩ ইং গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সত্যিকারভাবে বিএনপি-জামায়াত সরকার অবহেলিত সাতকানিয়া লোহাগাড়া উপজেলায় কোনো উন্নয়নই করেনি। তারা লুটপাতে ব্যস্ত ছিলো। তাদের সরকারের টিআর-কাবিখা দিয়ে অস্ত্র কিনতো। প্রতিটি ইউনিয়নে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিলো। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ ঘরবাড়ি করতে পারতো না। চাদাঁ দিতে হতো। কেউ ভয়ে ঘুমাতে পারতো না। বর্তমান সরকার দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের সরকার। গেলো ১০ বছরে সাতকানিয়া লোহাগাড়া ১৫ আসনে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। প্রতিটি রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন নতুন ভবন করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এখনকার জনগণ মানুষকে পুঁড়িয়ে মারার দল বিএনপি-জামায়াতকে পছন্দ করে না। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে মানুষ তাদের ক্ষমতায় চায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জননেতা ওবায়দুল কাদের আমাকে পুনরায় নমিনেশন দিলে উপজেলাকে স্মার্ট উপজেলায় রূপান্তর করবো ইনশাআল্লাহ। আশা করি নেত্রী আবারও আমার উপর সেই আস্থা রাখবেন।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০