সর্বশেষ :

কালিয়াকৈরে মধ্যযুগী কায়দায় নারী পোষাক শ্রমিককে নিযার্তন গ্রেফতার -০১


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : মার্চ ১৯, ২০২১ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে মধ্যযুগী কায়দায় নারী পোষাক শ্রমিককে নিযার্তন গ্রেফতার -০১

রাসেল শেখ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আয়েশা আক্তার (৪০) নামের পোশাক তৈরি কারখানার নারী শ্রমিককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এক বিবধা মেয়েসহ তিন সন্তান ও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে বনের জমিতে একটি ভাংগা টিনের ঘরে বসবাস করে আসছে প্রায় নয় বছর ধরে। প্রতিদিনই প্রতিবেশি নাসির উদ্দিনের সাথে সীমানা নিয়ে আয়েশা আক্তারের সাথে ঝগড়া হয়। গত ১২ মার্চ বিকেলে সীমানা নিয়ে মারাত্মক ঝগড়া হলে। সেই ঝগড়ার সূত্র ধরে প্রতিপক্ষ নাসির উদ্দিন,আব্দুল আজিজ, জোনাইদ হোসেন, শিলা বেগম, ও নাসিরের স্ত্রী সালেহা বেগম পোশাক শ্রমিক আয়েশা আক্তারের উপর আত্মকৃত হামলা চালায়।

পরে মারধরের এক পযার্য় আয়েশা আক্তার রক্তাক্ত জখম হয়ে পড়লে তাকে বাড়ীর পাশের একটি গাছে বেঁধে ফেলে।ওই সময় হামলাকারীরা একটি লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর ও গোপনাঙ্গতে একাধিক বার আঘাত করে। পরে আয়েশা আক্তার অজ্ঞান হয়ে পড়লে পাশে দাঁড়িয়ে তার অবুজ চার সন্তান তাকিয়ে দেখতে দেখতে কান্নাকাটি করে হামলাকারীদের হাতে পায়ে ধরেন। খবর পেয়ে পাশের কালামপুর গ্রাম থেকে লোকজন এসে আয়েশা আক্তারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। পোশাক নারী শ্রমিককে অমানবিক নিযার্তনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফেসবুকে ভাইরাল হলে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের টনক নড়ে। পরে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল এলাকা থেকে নিযার্তনকারী জোনাইদ হোসেনের স্ত্রী শিলা আ্ক্তারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেন। পরে আয়েশা আক্তারের দেওয়া অভিযোগটি রজু করেন।

এলাকাবাসী, নিযার্তিতা ও পুলিশ জানান, গত ১২ মার্চ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সিনাবহ পশ্চিমপাড়া উনদার টেক এলাকায় বনের জমিতে বসবাসকারী আয়েশা আক্তারের সাথে সীমানা নিয়ে প্রতিবেশি নাসির উদ্দিনের সাথে ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার এক পর্যায় প্রতিপক্ষ নাসির উদ্দিন,আব্দুল আজিজ, জোনাইদ হোসেন, শিলা বেগম, ও নাসিরের স্ত্রী সালেহা বেগম লাঠিশোটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় পোশাক নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা বাড়ীর পাশের একটি গাছে উড়না দিয়ে হাতপা বেঁধে অমানবিক মারধর ও গোপনাঙ্গে একাধিকবার আঘাত করেন। এসময় পাশের গ্রাম কালামপুর থেকে খবর পেয়ে কয়েকজন নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়েশা অক্তারকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। পরের দিন আয়েশা আক্তার কালিয়াকৈর থানায় নাসির উদ্দিন,আব্দুল আজিজ, জোনাইদ হোসেন, শিলা বেগম, ও নাসিরের স্ত্রী সালেহা বেগমের নামে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক সামছুদোহা ১৪ মার্চ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত শুনেন।

এসময় আয়েশা আক্তার গাছে বেধে নিয়ে অমানবিক নিযার্তন ও শরীরের নানা স্থানের গোপনাঙ্গে আঘাতের কথা বললেও পুলিশ কর্মকতার্ আসামী পক্ষের সাথে যোগসাজসে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান সহ কয়েকজন মাতাবরকে ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব দেন। পুলিশের কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়ে মাতাবরগণ বুধবার সকালে গ্রাম্য শালিশে বসেন। পরে দুই পক্ষের কথা শুনে পাঁচ হাজার টাকা আসামী পক্ষের লোকজনকে জরিমানা করেন। বিচারেই আসামী পক্ষের লোকজন দুই হাজার টাকা আয়েশা আক্তারকে চিকিৎসার জন্য দিলে সে গ্রহণ করেনি। ফলে গ্রাম্য শালিশে বসা মাতাবরগণ শালিশ থেকে উঠে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে যান।

নিযার্তিতা আয়েশা আক্তার জানান, আমি গত নয় বছর আগে প্রতিবেশি নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ বনের জমি ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে টিনের একটি ঘর ˆতরি করি। সেখানে বিধবা এক মেয়েসহ তিন সন্তান নিয়ে এবং অসুস্থ্য স্বামী নিয়ে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করে যাচ্ছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ নাসির উদ্দিন গং সীমানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাছে বেঁধে অমানবিক নিযার্তন করে। পরে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ওই পুলিশ কর্মকতার্ স্থানীয় মাতাবরদের কাছে মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব দিয়ে যান।

ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান সিকদার জানান, পুলিশ কর্মকতার্ সামছুদোহা ওই ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য বলেন। আমরা কয়েকজন গত বুধবার সকালে বসে দুই পক্ষের কথা শুনে একটা রায় দেই। সেই রায় বাদী আয়েশা আক্তার না মানলে তাকে আইনগত ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য বলে চলে যাই।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরি জানান, এ ঘটনায় মামলা নিতে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। তবে নিযার্তিতার ছবি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা রজু করে এক আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুরোনো সংখ্যা

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সতর্কবাণী: এই সাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।